জিসানের প্রথম শতকের অনবদ্য যাত্রা

এত বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হলে, ওপেনিংয়ে বড় একটা ইনিংস খেলা ছিল ভীষণ প্রয়োজন। সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন জিসান।

একটা আক্ষেপ জমা ছিল। সেই আক্ষেপের বিস্ফোরণ হওয়া ছিল অবধারিত। জিসান আলমের ব্যাট থেকে তাই এলো বিস্ফোরিত শতক। লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে জিসানের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকানো ইনিংসটিকে বর্ণনা করতে ‘অসাধারণ’ শব্দটাও হয়ত যথেষ্ট হবে না।

তাওহীদ হৃদয়ের সেঞ্চুরি, তানজিদ তামিম ও সাব্বির রহমানদের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৩২২ রান স্কোরবোর্ডে তোলে নর্থ জোন। এত বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে হলে, ওপেনিংয়ে বড় একটা ইনিংস খেলা ছিল ভীষণ প্রয়োজন। সেই দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন জিসান। এবারের বিসিএল ওয়ানডেতে প্রথম ম্যাচে খেলতে নেমেই করেছেন বাজিমাত।

কিছু করে দেখাতে পারার তীব্র তাড়না জমা ছিল জিসানের মধ্যে। গোটা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ তাকে ডাগআউটে বসে কাটাতে হয়েছে। দলের শিরোপা উদযাপন করেছেন ঠিকই, কিন্তু তাতে তার অবদান ছিল না এক ফোঁটাও। এরপর অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপেও নিজের সামর্থ্যের প্রকাশ ঘটাতে হয়েছেন ব্যর্থ।

অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যতের কাণ্ডারি ভাবা হয় তাকে। সেই তিনিই যখন সুযোগের অভাবে ব্যর্থ হন- তখন তা ভীষণ পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য। সেই পীড়া কমাতে তিনি মাত্র ৭৩ বলে ছুঁয়ে ফেলেন শতরানের মাইলফলক। ১৪ খানা চার আর তিন খানা ছক্কায় তিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে প্রথম শতকের স্বাদ আস্বাদন করেন জিসান।

এক কথায় দূর্দান্ত এক ইনিংস খেলে গেছেন। দলকে বিশ্বাস জুগিয়েছেন যে ৩২৩ রানও টপকানো সম্ভব। মোট ২১টি বাউন্ডারিতে ১২৭ রানের ইনিংসটি সাজিয়েছিলেন। ৯৩ বল খেলে রিশাদ হোসেনের উইকেটে পরিণত হয়েছেন জিসান আলম। দলের জয় একেবারে নিশ্চিত করে আসতে না পারলেও, তিনি একটা বিষয় নিশ্চিত করেছেন- অল্পতেই হারিয়ে যাওয়ার মিছিলে জিসান হবে না সামিল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link