কোহলির রাজকীয় চেজ!

একটা মাঠ, একটা ব্যাট আর একটা টার্গেট হলেই হলো, চেজ হবেই। কারণ নামটা বিরাট কোহলি। ওই স্ট্রেইট ড্রাইভ, ওই রিস্টের ফ্লিক এখনো বলে হি ইজ দ্য বেস্ট।

রয়্যাল হাইনেস, ইন্টারন্যাশনাল থেকে রিটায়ার্ড, ঘরোয়া থেকে দূরে। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন গত আসরের ফাইনালে। তবুও ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মত এত বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে তার ম্যাচ খেলতে হয় না, আলাদা প্রিপারেশন দরকার হয় না। একটা মাঠ, একটা ব্যাট আর একটা টার্গেট হলেই হলো, চেজ হবেই। কারণ নামটা বিরাট কোহলি। ওই স্ট্রেইট ড্রাইভ, ওই রিস্টের ফ্লিক এখনো বলে হি ইজ দ্য বেস্ট।

ক্রিকেটের ইতিহাসে অনেক বড় বড় ব্যাটসম্যান এসেছে, অনেকেই রান করেছে পাহাড়সম। কিন্তু চেজের গল্পে কোহলির মতো করে কেউ রাজত্ব করতে পারেনি। কারণ এখানে শুধু স্কিল নয়, লাগে মানসিক শক্তি, যেখানে কোহলি সবার থেকে আলাদা।

দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকলেও তার ভেতরের আগুনটা নিভে যায় না। বরং সেই আগুন আরও নিখুঁত হয়, আরও ধারালো হয়। অন্যরা যখন ম্যাচ খেলে ফর্ম খোঁজে, কোহলি তখন নিজের ভেতরেই খুঁজে নেন নিজের সেরা সংস্করণটা।

টার্গেট যত বড়, কোহলি তত ভয়ঙ্কর। ২০০, ২৫০, কিংবা তারও বেশি, সংখ্যাটা তার জন্য শুধু একটা চ্যালেঞ্জ, ভয় নয়। প্রতিটা বল, প্রতিটা রান, সব কিছু হিসেব করে এগোনো, চাপকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা, এই খেলাটাই তিনি সবচেয়ে ভালো জানেন। আর তাতেই পুড়ে ছারখার হয় প্রতিপক্ষ। যেমনটা হলো সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।

২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামলেন। শুরুতে একটু সময় নিলেন, উদ্দেশ্য পরিবেশ পরিস্থিতি নখদর্পনে আনা। বাকিটা সময় বিরাট কোহলির বিরাট শো চলল। একপ্রান্ত নিজের করে রাখলেন। অপরপাশে বাকিরা তান্ডব চালাল, সাজঘরে ফিরল তবে কোহলি নামক ক্যালকুলেটর অবিচল রইল একই ধারা। প্রতিটা হিসাব একেবারে নিঁখুত বানিয়ে ছুঁটতে থাকল জয়ের প্রান্তে।

ধীরে ধীরে গতি বাড়ল, বোলাররা কোহলির নির্মম সৌন্দর্য দেখল। দাঁড়িয়ে থাকা জয়ের নিশান উড়াল রাজা। ৩৮ বলে ৬৯ রানের হার না মানা ইনিংস, ২০২ রান চেজ হয়েছে অনায়াসে, ২৬ বল সাথে ছয় উইকেট হাতে রেখে। অবশ্য এটা যে হওয়ার ছিল। রাজা কোহলি যেখানে থাকে সেখানে যে অসম্ভব বলে কিছু নেই।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link