গোটা বাংলাদেশ পারলে এখন জড়িয়ে ধরত কুশল মেন্ডিসকে। ‘আমার ভাই’ চিৎকারে পরম মমতায় আলিঙ্গন করত সবাই তাকে। তিনি একা হাতে দু’টো দলকে নিয়ে গেলেন এশিয়া কাপে সুপার ফোর-এ। নিজেদের শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে, বাংলাদেশের দুশ্চিন্তারও অবসান ঘটালেন পঞ্চাশ ছাড়ানো ইনিংস খেলে। ওপেনিং থেকে একেবারে শেষ অবধি তিনি টিকে রইলেন। সকল সমীকরণের অবসান ঘটিয়ে দলকে জেতালেন।
শেষের ওভারে দুনিথ ওয়েল্লালাগে ম্যাচের মোমেন্টাম রীতিমত তুলে দিয়েছিলেন আফগানিস্তানের হাতে। অবশ্য সেই মোমেন্টাম এক প্রকার কেড়েই নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নবী। পাঁচ ছক্কার ৩২ রানের শেষ ওভারটি আফগানদের বিশ্বাসের পালে লাগিয়েছিল হাওয়া। ততক্ষণে হালকা দুলে গেছে লঙ্কদ্বীপের প্রলয় তরী।
কিন্তু দক্ষ সেনানী হয়ে কুশল মেন্ডিস দাঁড়িয়ে গেলেন ঝড়ের মোকাবেলায়। দীর্ঘদিনের সঙ্গী পাথুম নিসাঙ্কা ফিরে গেলেন দ্রুত। কিন্তু কুশল মেন্ডিস বনে গেলেন এভারেস্টসম দৃঢ়তার অপর নাম। একটা প্রান্ত আগলে রাখলেন শ্রীলঙ্কার। এশিয়া কাপে তার ফর্মহীনতার শৃঙ্খল ভেঙে তিনি বেড়িয়ে এলেন। তুলে নিলেন হাফসেঞ্চুরি।

তিনি জানতেন আফগানদের স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে ব্যাট করা হবে ভীষণ কঠিন। আবু ধাবির উইকেটে যেকোন নতুন ব্যাটার পড়তে পারেন মহা সমস্যায়। এ কারণেই কুশল অকারণে ঝুঁকি নিলেন না। হিসেব কষে, সময়ের প্রয়োজন মেনে রান তুলেছেন ডানহাতি এই লঙ্কান ব্যাটার। তাতে করে তিনি একই সাথে বনে গেছেন দুই দেশের ‘নায়ক’।
তার ৫২ বলে খেলা ৭৪ রানের ইনিংসের কল্যাণে আট বল বাকি থাকতেই শ্রীলঙ্কা টপকে গেছে ১৭০ রানের লক্ষ্যমাত্রা। দশ চারের ইনিংসের তিনি একটিও ছক্কা মারেননি। তবুও তাকে বিন্দুমাত্র মনে হয়নি আগ্রসনহীন। এতে করে শ্রীলঙ্কা অপরাজিত থেকেই কেটেছে সুপার ফোরের টিকিট। সেই সাথে বাংলাদেশকে সঙ্গী করেছে তারা।
নাগিন ডান্স, টাইমড আউট কতশত দ্বৈরথ উত্তাপ ছড়িয়েছে মাঠের ক্রিকেটে। তবুও সাকিব আল হাসান, শ্রীলঙ্কাকে বন্ধু বলেই আখ্যায়িত করেছিলেন। দাসুন শানাকাও তাতে সম্মতি জানিয়েছিলেন। বিপদের মুখে কুশল মেন্ডিস বন্ধুত্বের পরিচয়ই দিলেন। হাস্যরসের পালা চুকিয়ে অন্তত বাংলাদেশ সুযোগ পেলো সুপার ফোরে। এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহারই তো টাইগারদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত।












