গোল বন্যায় ভাসিয়ে নতুন মৌসুম শুরু বার্সেলোনার!

লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক এলচেকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধুলিসাৎ করে লিগ অভিযানের রাজকীয় সূচনা করেছে তারা

টানা দুই আসরের রাজত্ব ধরে রাখা বার্সেলোনা যেন নতুন মৌসুমেও থামার মুডে নেই। লা লিগায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক এলচেকে তাদেরই মাঠে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে ধুলিসাৎ করে লিগ অভিযানের রাজকীয় সূচনা করেছে তারা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়ে এলচের রক্ষণভাগ। প্রতিপক্ষের অর্ধে হাই প্রেসিংয়ের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে অতিথি দল। তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল শুরুতে সহজ একটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও বার্সাকে প্রথম সাফল্যের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি।

জাভি এস্পারতের বুদ্ধিমত্তায় প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার পর বক্সে ফাউলের শিকার হন রাফিনহা। নিখুঁত পেনাল্টি শটে জালে বল জড়িয়ে দলকে প্রথম আনন্দে ভাসান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

প্রথম গোলের পর হান্সি ফ্লিক তাঁর কৌশলগত পরিপক্কতার পরিচয় দেন। গতানুগতিক বেপরোয়া আক্রমণের পথ ছেড়ে দল খানিকটা জমাট বাঁধে নিজেদের অর্ধে। এলচেকে বলের দখল নেওয়ার সুযোগ দিয়ে ক্ষুরধার কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর জোর দেয় বার্সা।

প্রথমার্ধের শেষলগ্নে আবারও চেনা রূপ ধারণ করে বার্সার আক্রমণভাগ। মিডফিল্ডে মার্ক বের্নালের বল ছিনিয়ে নেওয়ার পর ইয়ামাল ও রাফিনহার চোখধাঁধানো বোঝাপড়ায় তৈরি হয় দ্বিতীয় গোল। রাফিনহার নিখুঁত পাস থেকে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বার্সেলোনার জার্সিতে নিজের গোলের খাতা খোলেন নতুন প্রযোগ করিম আদেইয়েমি।

দ্বিতিয়ার্ধেও ম্যাচের রাশ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রাখে কাতালানরা। লো ব্লকে খেলে প্রতিপক্ষকে টেনে এনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে রাফিনহাকে লক্ষ্য করে একের পর এক থ্রু পাস বাড়াতে থাকে তারা। অধিনায়ক রাফিনহা শুরুতে একটি সুযোগ হাতছাড়া করলেও নতুন সাইনিং অ্যান্টনি গর্ডনের বানিয়ে দেওয়া সুযোগ নষ্ট করেননি। বা-প্রান্তে দানি ওলমোর সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে গর্ডনের নিখুঁত পাসে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন রাফিনহা, সেই সঙ্গে দলের জয়ও সুনিশ্চিত হয়ে যায়।

জয়ের ব্যবধান আরও বড় করতে মরিয়া ফ্লিকের শিষ্যরা আক্রমণ থামায়নি। ম্যাচের শেষভাগে ফেরমিন লোপেসের কাছ থেকে দেখা মেলে ম্যাচের অন্যতম সেরা গোলটি। পিঠ গোলপোস্টের দিকে থাকা অবস্থায় বল রিসিভ করে, এক  মোচড়ে ডিফেন্ডারকে ছিটকে ফেলে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।

তারকা ফুটবলারদের অনুপস্থিতি কিংবা মৌসুমের শুরুতেই ম্যাচের ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চ্যালেঞ্জ – সব শঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে মাঠ জুড়ে ছড়ি ঘুরিয়েছে বার্সেলোনা। এই দুর্দান্ত জয় স্পষ্ট বার্তা দেয়, শিরোপার মুকুট সহজে হাতছাড়া করতে রাজি নয় কাতালানরা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link