রফিক-পাইলটদের প্রতিপক্ষ শচীন-লারারা

কয়েক দিন আগেই কক্সবাজারে বসে ছিলো বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটারদের মিলন মেলা। লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে মাঠে নেমেছিলেন রফিক, পাইলট, সুজনরা। এটার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের গন্ডি পেরিয়ে এবার বৈশ্বিক আসরে মাঠে নামছেন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটাররা; যেখানে প্রতিপক্ষ হিসাবে থাকবেন শচীন, লারা, মুরালিধরন, হার্শেল গিবসের মতো কিংবদন্তিরা।

সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাবেক ক্রিকেটারদের নিয়ে ভারতে গত বছরের মার্চে শুরু হয়েছিলো রোড সেফটি ওয়ার্ল্ড সিরিজ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। কিন্তু মাত্র চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর করোনা বিপর্যয়ের কারণে স্থগিত হয় যায় টুর্নামেন্টটি। এক বছর বিরতি দিয়ে আগামী পাঁচ মার্চ থেকে মাঠে গড়াবে টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচ গুলো।

টুর্নামেন্টের শুরুতে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি বাংলাদেশের। কিন্তু টুর্নামেন্টের বাকি অংশে করোনার কারণে ভ্রমণজনিত নিষেধাজ্ঞায় খেলতে পারছে না অস্ট্রেলিয়া লিজেন্ডস। তাই তাদের পরিবর্তে টুর্নামেন্টে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ লিজেন্ডস। সদ্য শেষ হওয়া লিজেন্ডস চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে টুর্নামেন্ট সেরা হওয়া মোহাম্মদ রফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ লিজেন্ডসের হয়ে মাঠে নামবেন খালেদ মাহমুদ সুজন, খালেদ মাসুদ পাইলট, আব্দুর রাজ্জাক, আফতাব আহম্মেদ, মেহরাব হোসেন অপির মতো সাবেক ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশ লিজেন্ড’স ছাড়াও প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ইন্ডিয়া লিজেন্ডস, শ্রীলঙ্কা লিজেন্ডস, ইংল্যান্ড লিজেন্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডস ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ লিজেন্ডস।

টুর্নামেন্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করেছে প্রতিটা দলই। শচীন টেন্ডুলকারের নেতৃত্বে ভারত লেজেন্ডসের হয়ে মাঠে দেখা যাবে বীরেন্দ্র শেবাগ, যুবরাজ সিং, জহির খান ও মোহাম্মদ কাইফের মতো সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ লেজেন্ডসের হয়ে ব্রায়ান লারার সাথে মাঠে নামবেন শিবনারায়ণ চন্দরপল ও টিনো বেস্টরা।

দক্ষিণ আফ্রিকা লিজেন্ডসের জার্সিতে খেলবেন হার্শেল গিবস, জ্যাক রুডলফ ও জন্টি রোডসরা। মারভান আতাপাত্তু, অজন্তা মেন্ডিস, চামিন্দা ভাস, মুত্তিয়া মুরালিধরন, রঙ্গনা হেরাথ ও দিলশানের মতো সাবেক ক্রিকেটারদের দেখা যাবে শ্রীলঙ্কা লিজেন্ডসের হয়ে মাঠে নামতে। ইংল্যান্ড লিজেন্ডসের হয়ে আবারো ২২ গজে নামছেন কেভিন পিটারসেন ও জোনাথন ট্রটরা।

আগামী ৫ মার্চ ভারত বাংলাদেশের ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে টুর্নামেন্ট। ১৭ দিনের এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্বের খেলা চলবে ১৬ মার্চ পর্যন্ত। ১৭ ও ১৯ মার্চ দুটি সেমিফাইনাল শেষে ২১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল। ভারতের রায়পুরের বিশিষ্ট শহীদ বীর নারায়ন সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের সব গুলো ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়।

প্রতিটা দলের স্কোয়াড

  • বাংলাদেশ: খালেদ মাহমুদ সুজন, নাফিস ইকবাল, মোহাম্মদ রফিক, আব্দুর রাজ্জাক, খালেদ মাসুদ পাইলট, হান্নান সরকার, জাভেদ ওমর, রাজিন সালেহ, মেহরাব হোসেন অপি, আফতাব আহমেদ, আলমগীর কবির, মোহাম্মদ শরিফ, মুশফিকুর রহমান বাবু, মামুনুর রশিদ।
  • ইংল্যান্ড: কেভিন পিটারসেন, ওয়াইজ শাহ, ফিলিপ মাস্টার্ড, মন্টি পানেসার, ঙ্ক কম্পটন, কবির আলি, সাজিদ মাহমুদ, জেমস ট্রেডওয়েল, ক্রিস স্কোফিল্ড, জোনাথন ট্রট, রায়ান সাইডবটম, উসমান আফয়াল, ম্যাথু হগার্ড ও জেমস টিনডাল।
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ব্রায়ান লারা, দাঞ্জা হায়াত, ড্যারেন গঙ্গা, রেনফোর্ড পিনক, রিকার্ডো পাওয়েল, শিবনারায়ন চন্দরপল, অ্যাডাম স্যানফোর্ড, দিনানাথ রামনারাইন, পেড্রো কলিন্স, স্যামুয়েল বাদ্রি, সুলেমান বেন, টিনো বেস্ট, কার্ল হুপার, রিডলি জ্যাকবস।
  • ভারত: মোহাম্মদ কাইফ, রবি গায়কোয়াড়, শচীন টেন্ডুলকার, বীরেন্দর শেবাগ, যুবরাজ সিং, মনপ্রীত গনি, মুনাফ প্যাটেল, প্রজ্ঞান ওঝা, জহির খান, ইরফান পাঠান, নোয়েল ডেভিড, সৈরাজ বাহুটুলে, সঞ্জয় বাঙ্গার, সামির দিঘে।
  • দক্ষিণ আফ্রিকা: হার্শেল গিবস, জ্যাক রুডলফ, জন্টি রোডস, লয়েড নরিস জোনস, মার্টিন ভ্যান জার্সভেল্ড, গারনেট ক্রুগার, পল হ্যারিস, রজার টেলিমাচাস, অ্যালবি মরকেল, অ্যান্ড্রু হল, ইয়োহান ভ্যান ডার ওয়াথ, ল্যান্স ক্লুজনার, রায়ান ম্যাকলারেন, মর্নে ভ্যান উইক।
  • শ্রীলঙ্কা: চামারা কাপুগেদেরা, দুলাঞ্জানা বিজেসিংহে, মারভান আতাপাত্তু, অজন্তা মেন্ডিস, চামিন্দা ভাস, মুত্তিয়াহ মুরালিধরন, রঙ্গনা হেরাথ, সাচিত্রা সেনানায়েকে, থিলান থুশারা, উপুল চন্দনা, পারভেজ মাহরুফ, মালিন্দা ওয়ার্নাপুরা, তিলকারত্নে দিলশান, রমেশ কালুভিথারানা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link