মেসি-রোনালদো বিতর্কে ইব্রাহিমোভিচ

দুইজনেরই ক্যারিয়ার যখন গোধূলিলগ্নে, ঠিক তখনই বিতর্কটির ওপর নিজের চূড়ান্ত রায় জানালেন ফুটবলের 'ব্যাড বয়' খ্যাত জালতান ইব্রাহিমোভিচ।

লিওনেল মেসি নাকি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? এই তর্কের তো আর শেষ নেই। দুইজনেরই ক্যারিয়ার যখন গোধূলিলগ্নে, ঠিক তখনই বিতর্কটির ওপর নিজের চূড়ান্ত রায় জানালেন ফুটবলের ‘ব্যাড বয়’ খ্যাত ইব্রাহিমোভিচ।

​মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় শো ‘জিমি কিমেল লাইভ’ এ আলাপচারিতায় ইব্রাহিমোভিচ সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন, মেসির বিশ্বকাপ জয়ই এই বিতর্কের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ জয় ছিল লিওনেল মেসির দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন। ইব্রাহিমোভিচের মতে, এটাই ছিল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ যা তাকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

সুইডিশ এই কিংবদন্তি বলেন, ‘ফুটবলে সাধারণত প্রতি সপ্তাহে চুলচেরা বিশ্লেষণ হয় কার পারফরম্যান্স কতটা উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু কাতারে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর মেসি যে উচ্চতায় নিজেকে নিয়ে গেছেন, তাতে আর কোনো বিতর্কের অবকাশ থাকে না। তিনি দরজাটি চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন।’

অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ট্রফি ক্যাবিনেটে বিশ্বজয়ের স্বাদটি এখনো অধরা। পর্তুগালের হয়ে তিনটি বড় শিরোপা জিতেও সিআরসেভেন তাঁর শেষ বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ ঘোচানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তবে ইব্রাহিমোভিচ মনে করেন, ফুটবল শুধুমাত্র ট্রফির লড়াই নয়। ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও মেসি এবং রোনালদো – উভয়েই যে প্রবল প্রতিদ্বন্দিতা বজায় রেখেছেন, তা তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের আসনে বসিয়েছে। তাই পরিসংখ্যান ছাপিয়ে ভক্তদের হৃদয়ে এই বিতর্ক হয়তো চিরকালই অমর হয়ে থাকবে।

যদি কোনো প্রকার অঘটন ছাড়া আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়। আর পরবর্তীতে দুই নক আউট ম্যাচ টপকে আসতে পারে, তবেই কোয়ার্টার ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হতে পারেন তারা।

সময়ের স্রোতে ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলে দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই জাদুকর হয়তো শেষবারের মতো ফুটবলীয় যুদ্ধে নামবেন।আপাতত সেই অপেক্ষাতেই প্রহর গুনছে সারা বিশ্ব।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link