ফুটবল মাঠে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে গোলমেশিন হিসেবে দেখলেও, মাঠের বাইরে তিনি যেন এক মানবদরদী রাজপুত্র। ২০১৪ বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মাথার চুলের ছাঁট দেখে বিশ্বজুড়ে দর্শক ভেবেছিলেন এটি হয়তো কেবলই নতুন কোনো ফ্যাশন। কিন্তু সেই স্টাইলের আড়ালে লুকিয়ে ছিল মনকাড়া আবেগের গল্প।
২০১৪ সালের বিশ্বকাপের সময় রোনালদোর মাথার পাশে আঁকাবাঁকা একটি রেখার মতো নকশা দেখা যেত। সেই অচেনা কাটিংয়ের নেপথ্যে জড়িয়ে ছিল এরিক নামের মাত্র দশ মাস বয়সী এক নিষ্পাপ শিশু। মস্তিষ্কের এক জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুটি প্রতিনিয়ত তীব্র খিঁচুনিতে ছটফট করত। জীবন-মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ছোট্ট এরিকের জটিল অস্ত্রোপচারের জন্য তখন প্রয়োজন ছিল এক বিশাল অঙ্কের অর্থ।
সহায় সম্বলহীন পরিবারটি উপায় না পেয়ে সিআর সেভেনের কাছে শুধু একটি স্বাক্ষর করা জার্সি আর বুট চেয়েছিলেন। তাঁদের স্বপ্ন ছিল, পর্তুগিজ তারকার সেই অমূল্য স্মারক নিলামে বিক্রি করে চিকিৎসার টাকা জোগাড় করবেন। কিন্তু তাঁরা জানতেন না, রোনালদোর বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা এক অন্যরকম কোমল হৃদয়ের কথা।

চিঠিটি পেয়ে রোনালদো শুধু জার্সি-বুট পাঠিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি। তিনি একবাক্যে শিশুটির জীবনের সমস্ত চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ খরচ নিজের কাঁধে তুলে নেন। যে মানুষটি মাঠে প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরান, তিনিই মাঠের বাইরে এক শিশুর জন্য হয়ে উঠলেন সাক্ষাৎ দেবদূত।
পরবর্তীতে ফুটবল বিশ্বে আলোড়ন ছড়ায় এই ঘটনা। অনেকেই লক্ষ্য করেন, বিশ্বকাপে রোনালদোর মাথার সেই আঁকাবাঁকা নকশাটি হুবহু এরিকের অপারেশনের পর মাথার ক্ষতের মতো। ফুটবলের এই মহানায়ক নিজের চুলে সেই দাগ এঁকে এক লড়াকু শিশুর প্রতি প্রকাশ করেছিলেন তাঁর নীরব ভালোবাসা।
যদিও নিজের এই মহানুভবতা নিয়ে রোনালদো কখনো প্রকাশ্যে কোনো আত্মপ্রচার করেননি, তবে এরিকের জীবন বাঁচানোর এই গল্পটি ফুটবল ছাড়িয়ে মানবতার এক শ্রেষ্ঠ দলিল হয়ে আছে। দারুণ সব গোল করে দর্শকদের মন ভরিয়েই রোনালদো থেমে যান না, বরং, এমন মানবপ্রেমী ঘটনার গল্প জন্ম দেয় তাঁর প্রতি মুগ্ধতার।











