দুয়ো ধ্বনি থেকে বিস্ময়ের নাম!

জাতীয় দলে বার্সেলোনার মতো উজ্জ্বল নন, এমন সব অপবাদ আর আকাশসম প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়েই ২০০২ বিশ্বকাপে পা রেখেছিলেন এই জাদুকর।

যাকে একসময় ঘরের দর্শকরাই দুয়ো দিত, সেই অপাংক্তেয় রিভালদোই একদিন ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের পঞ্চম শিরোপা। দারিদ্র্যের করাল গ্রাস ভেঙে, সব অবহেলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বজয়ের এক অনন্য রূপকথা লিখেছিলেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম মহানায়ক রিভালদো।

লাতিন আমেরিকার আর বেশিরভাগ ফুটবলারের মতো তাঁর শৈশবও কেটেছিল চরম দারিদ্র্যে। অপুষ্টিতে চোয়াল ভেঙে যাওয়া বিদঘুটে চেহারার সেই ছেলেটি সমুদ্রসৈকতে পানি ফেরি করতেন। কিন্তু বুটের নিচে বল পেলেই সব কষ্ট ভুলে যেতেন। প্রতিদিন ১০-১২ কিলোমিটার হেঁটে বস্তি থেকে ট্রেনিংয়ে যেতেন ফুটবলের প্রতি এক বুক ভালোবাসা নিয়ে।

এমনকি কৃশকায় স্বাস্থ্যের কারণে প্রথম ক্লাব সান্তা ক্রুজও তাঁকে রাখতে চায়নি। অথচ সেই ছেলেটিই পরে বার্সেলোনার জার্সিতে বিশ্ব কাঁপিয়েছেন, এসি মিলানকে জিতিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। ১৯৯৩ সালে ব্রাজিলের জার্সিতে অভিষেকেই গোল, এরপর ১৯৯৮-এর রানার্সআপ দলের ট্রাজিক হিরো হয়ে ১৯৯৯ সালে ব্রাজিলকে এনে দেন কোপা আমেরিকার শিরোপা, হন টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও।

জাতীয় দলে বার্সেলোনার মতো উজ্জ্বল নন, এমন সব অপবাদ আর আকাশসম প্রত্যাশার চাপ মাথায় নিয়েই ২০০২ বিশ্বকাপে পা রেখেছিলেন এই জাদুকর। ইনজুরি ফেরত রোনালদো ফাইনালে আলো ছড়ানোর আগেই পুরো টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের আসল চালিকাশক্তি ছিলেন রিভালদো। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচেই গোল করে বনে যান সেলেসাওদের ত্রাতা।

ফাইনালে রোনালদো নাজারিওর করা দুটি গোলের পেছনেই ছিল রিভালদোর অবদান। তাঁর নেওয়া জোরালো শট জার্মানির গোলরক্ষক অলিভার কানের গ্লাভস থেকে ছুটে আসার পর ফিরতি শটে বল জালে জড়ান রোনালদো। পরের গোলেও পাস ছিল তাঁর পা থেকে। একটু স্বার্থপর বলে পরিচিত রিভালদোই ব্রাজিলকে এনে দিয়েছিলেন তাঁদের বিশ্বকাপের শেষ শিরোপা।  

দূরপাল্লার বুলেট গতির শট, মায়াবী ফ্রি-কিক আর নান্দনিক বাইসাইকেল কিকে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চুরমার করে দিতেন। গোল করা কিংবা করানো সবখানেই তিনি ছিলেন এক অনায়াস শিল্পী। নিজের বা পায়ের জাদুতে যারা ফুটবল দুনিয়াকে বিস্মিত করেছেন তাঁদের মধ্যে রিভালদোর নাম আসবে একেবারে শুরুর দিকে। ব্রাজিল ফুটবলের হল অব ফেমে লেখা রিভালদোর নামটি আজীবন ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে এক গভীর বিস্ময় হয়ে থাকবে।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link