ম্যাকায় টেস্টে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের ট্রাম্পকার্ড লিটন!

লিটন দাসকে নিয়ে যে গল্পটা বারবার ফিরে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেটা মূলত বিপর্যয়ের গল্প থেকে জেগে ওঠার। দলের ব্যাটিং যখন ধসে পড়ে, তখনই যেন সবচেয়ে সতেজ হয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট—এই মুহূর্তে বাংলাদেশ টেস্ট দলের পারফরম্যান্স বিচারে সবচেয়ে ধারাবাহিক আর সেরা ব্যাটসম্যানের নামটাও তাই লিটনেরই

লিটন দাসকে নিয়ে যে গল্পটা বারবার ফিরে আসে বাংলাদেশ ক্রিকেটে, সেটা মূলত বিপর্যয়ের গল্প থেকে জেগে ওঠার। দলের ব্যাটিং যখন ধসে পড়ে, তখনই যেন সবচেয়ে সতেজ হয়ে ওঠে তাঁর ব্যাট—এই মুহূর্তে বাংলাদেশ টেস্ট দলের পারফরম্যান্স বিচারে সবচেয়ে ধারাবাহিক আর সেরা ব্যাটসম্যানের নামটাও তাই লিটনেরই, সাম্প্রতিক দশ টেস্টে যাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৫৬৮ রান।

চট্টগ্রামে ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৯ রানে চার উইকেট হারানো এক দলকে টেনে তুলেছিলেন তিনি, ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি দিয়ে। এরপর মুলতানে ২৬ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর নেমে খেলেছিলেন ১৩৮ রানের সেই ইনিংস, যা জায়গা করে নিয়েছিল ক্রিকইনফোর বর্ষসেরা টেস্ট ইনিংসের তালিকায়—আর সেই ইনিংসেই এসেছিল পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়।

এই তালিকায় সবচেয়ে তাজা সংযোজনটা অবশ্য মাস দুয়েক আগের—গত মে মাসে সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষেই আরেকবার একই চিত্রনাট্য মঞ্চস্থ করেন লিটন। ছয় নম্বরে নেমে দল যখন ১১৬ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে, তখন টেল এন্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ১৬২ রানের জুটি গড়ে খেলেন ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, সংকটে লিটনের এই জ্বলে ওঠাটা কোনো পুরনো গল্প নয়, বরং সময়ের সাথে যা বারবার সত্যি প্রমাণ হয়েছে।

ডারউইনে প্রথম টেস্টে অবশ্য এক ইনিংসে রান পাননি লিটন, কিন্তু তাতে তাঁর ওপর থেকে দলের ভরসা এতটুকু কমার কারণ নেই। বরং উল্টো গল্পটাই বেশি প্রাসঙ্গিক—ইনজুরির কারণে যখন তাঁকে নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল, দলে থাকা নিয়েই যখন ছিল সংশয়, ঠিক তখনই প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সুস্থ হয়ে স্কোয়াডে ফেরাটা ছিল গোটা দলের জন্য বিশাল এক স্বস্তি।

সেই স্বস্তিটুকু নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন তিনি প্রথম টেস্টে, উইকেটের পেছনে আর স্লিপ কর্ডনে অধিনায়ক শান্তর পাশে দাঁড়িয়ে যতটা ভূমিকা রেখেছেন, ব্যাট হাতে একটা ইনিংসে রান না পাওয়াটা তার তুলনায় নেহাত ছোট এক বিচ্যুতি। তাই ম্যাকের দ্বিতীয় টেস্টেই আসল প্রশ্নের জবাবটা মিলতে পারে—লিটন কি পারবেন আবারও তাঁর সেই চেনা ভূমিকায় ফিরতে?

ইতিহাস অন্তত এটুকু বলছে, দল যখনই সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে, লিটনই তখন সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন—আর সেটা কোনো সেকেলে পরিসংখ্যান নয়, মাস দুয়েক আগেও সিলেটে যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন তিনি। ম্যাকায়ের অচেনা উইকেটেও সেই পুরনো চরিত্রেই ফিরতে পারেন লিটন, আর সেটাই হতে পারে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link