স্বপ্ন আর বাস্তবের দোলাচলে লখনৌ সুপার জায়ান্টস

আইপিএলের আঙিনায় লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল রাজকীয়ভাবে। কিন্তু সময়ের সাথে সেই জৌলুস যেন কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। টানা চার বছর টুর্নামেন্টে টিকে থাকলেও সাফল্যের গ্রাফটা এখন নিম্নমুখী।

ইন্ডিয়া প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) আঙিনায় লখনৌ সুপার জায়ান্টসের যাত্রাটা শুরু হয়েছিল রাজকীয়ভাবে। কিন্তু সময়ের সাথে সেই জৌলুস যেন কিছুটা ফিকে হয়ে এসেছে। টানা চার বছর টুর্নামেন্টে টিকে থাকলেও সাফল্যের গ্রাফটা এখন নিম্নমুখী। প্রথম দুই বছর দাপটের সাথে প্লে অফে নাম লিখিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে আশা জাগিয়েছিল তারা। কিন্তু গত দুই আসরে সপ্তম স্থানে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দলকে।

একটা সময় গৌতম গম্ভীর ছিলেন এই দলের মেন্টর ও কৌশলী মস্তিষ্ক। তিনি বিদায় নেওয়ার পর থেকেই এলএসজির অন্দরমহলে যেন স্থবিরতা নেমে এসেছে। বর্তমান আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে লখনৌই একমাত্র অভাগা দল, যারা এখন পর্যন্ত আইপিএলের ফাইনালের মঞ্চে পা রাখতে পারেনি।

​লখনৌয়ের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে। বিশেষ করে এইডেন মার্করাম, মিশেল মার্শ এবং নিকোলাস পুরান – এই ত্রয়ী গত মৌসুমে স্পিনারদের শাসন করে নিজেদের জাত চিনিয়েছেন। অধিনায়ক ঋষাভ পান্ত গতবার প্রত্যাশা অনুযায়ী জ্বলে উঠতে না পারলেও, নিজের দিনে তিনি একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। পাশাপাশি তরুণ আয়ুষ বাদোনি এবং আব্দুল সামাদের ব্যাটে মিডল অর্ডারে নির্ভরতা খুঁজবে টিম ম্যানেজমেন্ট।

​কাগজে-কলমে ব্যাটিং শক্তিশালী হলেও লক্ষ্ণৌয়ের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বোলিং বিভাগ। গতির ঝড় তুলে নজর কেড়েছিলেন মায়াঙ্ক যাদব, কিন্তু অভিষেক মৌসুমের সেই অবিশ্বাস্য ছন্দ তিনি আর খুঁজে পাচ্ছেন না।

এই দুর্বলতা ঢাকতেই এবার দলে নেওয়া হয়েছে অভিজ্ঞ মোহাম্মদ শামি এবং লঙ্কান স্পিন জাদুকর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে। শামি-হাসারাঙ্গা জুটি যদি সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে পারেন, তবেই কপাল খুলবে দলটির। এছাড়া শাহবাজ আহমেদ এবং আবেশ খানের পারফরম্যান্সের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করছে।

বিকেলের পড়ন্ত রোদে যখন গোমতী নদীর জল চিকচিক করে উঠবে, তখন কি লক্ষ্ণৌয়ের নীল জার্সিধারীরা সেই রূপালী আভা গায়ে মেখে মাঠের পারফরম্যান্সে উজ্জ্বলতা ছড়াতে পারবে? উত্তরটা হয়তো লুকিয়ে আছে সময়ের গর্ভে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link