​হারানো রাজত্ব পুনরুদ্ধারে ম্যান সিটির কঠিন লড়াই

টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন কাটানো আর পেপ গার্দিওলার বিদায়। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এই ঘটনাগুলো কেবল একটি মৌসুমের ইতি টানা নয়, বরং ইংলিশ ফুটবলে এক বিরাট যুগান্তকারী পরিবর্তনের সংকেত।

​টানা দুই মৌসুম শিরোপাহীন কাটানো আর পেপ গার্দিওলার বিদায়। ম্যানচেস্টার সিটির জন্য এই ঘটনাগুলো কেবল একটি মৌসুমের ইতি টানা নয়, বরং ইংলিশ ফুটবলে এক বিরাট যুগান্তকারী পরিবর্তনের সংকেত। সিটির এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন কাণ্ডারী হিসেবে ইতিহাদের মসনদে বসেছেন এঞ্জো মারেসকা।

মারেসকার পথচলার শুরুতেই যে বিষয়টি পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে, তা হলো পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া অবিশ্বাস্য অতীত। দশটি মৌসুমে ২০টি ট্রফি, ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, যেখানে কখনোই সেরা তিনের নিচে নামেনি দল।

সেই সাথে তিনটি এফএ কাপ এবং ক্লাবের ইতিহাসের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। পেপের এই রাজকীয় খতিয়ান মারেসকার জন্য একই সাথে আশীর্বাদ এবং বিশাল এক মনস্তাত্ত্বিক চাপ।

​স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছাড়ার পর ডেভিড মোয়েস যেমন ফার্গির সাফল্যের পাহাড়প্রমাণ চাপের নিচে পিষ্ট হয়েছিলেন, মারেসকার সামনেও ঠিক একই ভয় কাজ করছে।

গার্দিওলার তৈরি করে যাওয়া একটি প্রস্তুত ও শক্তিশালী স্কোয়াড পেয়ে তিনি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন ঠিকই, কিন্তু ইতিহাদের গ্যালারি আর ফুটবলপ্রেমীদের অতি-প্রত্যাশা সামলে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

মাঠের কথায় এলে, সিটির সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা এখন মিডফিল্ড। গার্দিওলার শাসনে সিটির হৃৎপিণ্ড ছিল তার মিডফিল্ড। অথচ সিটির সেই হৃদস্পন্দন এখন চরম অনিশ্চয়তায়।

কেভিন ডি ব্রুইনে ও ইলকায় গুন্দোগানের মতো অভিজ্ঞ কাণ্ডারীরা ইতোমধ্যে ইতিহাস। ইতিহাদ ছেড়ে বার্নাব্যুতে তরী ভিড়িয়েছেন বার্নাডো সিলভাও।

​এই চরম সংকটময় মুহূর্তে দলের মূল চালিকাশক্তি রড্রিও রিয়াল মাদ্রিদ বা বার্সেলোনার মতো স্প্যানিশ জায়ান্টের ডাকে সাড়া দিয়ে ইতিহাদ ছাড়ছেন। ফলে সিটির মাঝমাঠে তৈরি হবে এক বিশাল ধস।

তবে এই কঠিন সমীকরণের মাঝেও নতুন সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। রড্রি দল ছাড়লেও সিটির তাঁবুতে প্রস্তুত আছেন রায়ান চেরকি, এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ফিল ফোর্ডেন ও মাতেও কোভাচিচের মতো ক্ষুরধার ফুটবলাররা। এর সাথে যুক্ত হতে পারেন সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে চমক দেখানো তরুণ তুর্কি আয়ুব বুআদ্দি।

পরিশেষে, এই কঠিন বাঁকগুলো পার হওয়াই নির্ধারণ করবে ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ গতিপথ। পেপ গার্দিওলার রেখে যাওয়া সাফল্যের রাজকীয় ব্যাটন নিয়ে সিটি কি ইংলিশ ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য ও জয়ের গৌরব ধরে রাখতে পারবে? নাকি এক সময়ের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মতোই যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাবে তাদের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য? উত্তরটা আপাতত সময়ের গর্ভে লুকোনো।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link