সবাই বেশ আশা করেছিল, সাকিব আল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হবেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সাকিবের মত না হোক, অন্তত অলরাউন্ডার হিসেবে দলের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন তিনি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সাকিবের অবর্তমানে মেহেদী হাসান মিরাজ নিজস্ব স্বকীয়তাও হারিয়ে ফেলতে বসেছেন যেন।
২০২৩ সালের বিশ্বকাপের পর থেকে এখন অবধি ওয়ানডেতে মিরাজের পারফরমেন্সে নেতিবাচক ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ওই বিশ্বকাপের পর থেকে এখন অবধি ২৩ খানা ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন মিরাজ। এই সময়ে তার শিকার করা উইকেট সংখ্যা ২০টি। এর মধ্যে আটটি ম্যাচে মিরাজ থেকেছেন উইকেট শূন্য। একাধিক উইকেট শিকার করতে পেরেছেন স্রেফ চারটি ম্যাচে।
অন্যদিকে ব্যাট হাতেও যে তার দিনকাল ভাল যাচ্ছে- সেটা বলারও উপায় নেই কোন। ২৩ ম্যাচের মধ্যে ২১ ইনিংসে ব্যাট করেছেন। এই সময়ে রান সংগ্রহ করেছেন ৫৪৩। ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস খেলতে পেরেছেন চারটি ম্যাচে, যার মধ্যে একটিও নেই সেঞ্চুরি। এই পরিসংখ্যান ঠিক কতটুকু হতাশাজনক, তা বুঝতে হলে সাকিবের খেলা ২০২৩ সালের ওয়ানডে পরিসংখ্যান টানলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

সাকিব বাংলাদেশের জার্সিতে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালে। সেই বছর ২৩টি ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বিকেলেও ম্যাচপ্রতি উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। ২০ ইনিংসের মধ্যে মোট পাঁচ ইনিংসে সাকিব উইকেটশূন্য থেকেছেন। একাধিক উইকেট শিকার করেছেন পাঁচ ইনিংসে। পার্থক্যটা দিনের আলোর মতই স্পষ্ট।
এমনকি চোখের সমস্যা থাকার পরও ব্যাট হাতে মিরাজের তুলনায় ভাল করেছেন সাকিব। ২২ ইনিংসে ৭৩৫ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন সাকিব। ছয় ইনিংসে ফিফটি ছাড়ানো ইনিংস খেলেছেন। তিনিও অবশ্য সেঞ্চুরি অবধি পৌঁছাতে পারেননি। তবে চার ইনিংসে তিনি ঠিকই ৭৫ বা তার বেশি রান করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখানেও বুড়িয়ে যাওয়ার সাকিবের সমকক্ষ হতে পারেননি মিরাজ।
অথচ মিরাজ এখন রয়েছেন ক্যারিয়ারের মধ্যগগণে। এখনই তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ আলোর বিকিরণ প্রত্যাশিত। কিন্তু তিনি ব্যর্থতার ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছেন না। উল্টো তার উপর বেড়েছে চাপ। ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব তার কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে। অফফর্মে থাকা মিরাজকে তাই এখন আরও বেশি সচেতনতা নিয়ে পারফরম করতে হচ্ছে।

অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে গিয়ে নিজের কাজটা ঠিকঠাক মত করতে পারছেন না মিরাজ। তাতে করে আখেরে কোনদিক থেকেই উপকৃত হচ্ছে না বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। মিরাজের এই ধারা অব্যাহত থাকলে, বাংলাদেশের জন্য এটি হয়ে দাঁড়াতে পারে গভীর উদ্বেগের কারণ।











