লর্ডসের ব্যাটিং লর্ড

‘হোম অব ক্রিকেট’ খ্যাত লর্ডসে খেলাটা যেকোনো ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। ক্রিকেটের ঐতিহাসিক এই স্টেডিয়ামের বেলকনি, ড্রেসিং রুম থেকে মাঠে যাওয়ার লম্বা রাস্তা, চোখ ধাঁধাঁনো কমেট্রি বক্স সবকিছুরই আলাদা একটা গুরুত্ব আছে। এই মাঠে কেউ সেঞ্চুরি করলে কিংবা পাঁচ উইকেট নিলে নাম উঠে যায় অনার্স বোর্ডে।

লর্ডসের সেই বিখ্যাত অনার্স বোর্ডে নাম ওঠানোটাও প্রতিটা ক্রিকেটারেরই স্বপ্ন থাকে। তবে সেই সম্মান অর্জন করতে পেরেছে গুটি কয়েকজনই। এই ঐতিহাসিক মাঠে এখন অবধি একশোর বেশি টেস্ট খেলা হয়েছে। যার মধ্যে অনেকেই নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন অনেক রান।

লর্ডসের মাটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের প্রথম পাঁচজন স্বভাবতই ব্রিটিশ। কারণ, তারাই এই মাঠে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বেশি। তাঁদের নিয়েই এবারের আয়োজন।

  • অ্যালেক স্টুয়ার্ট

১৪ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপিয়ে বেড়ানো ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ছিলেন অ্যালেক স্টুয়ার্ট। তিনি ইংল্যান্ডের হয়ে চতুর্থ সর্বোচ্চ টেস্ট খেলেছেন! সাদা জার্সিতে ইংল্যান্ডের হয়ে তিনি ১৩৩টি টেস্ট খেলেছেন।

এছাড়া রঙিন জার্সিতে খেলছেন ১৭০ ওয়ানডে। যা কিনা ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ১৯৮৯-৯০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অভিষিক্ত হন অ্যালেক। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ওপেনার টেস্টে ৩৯.৫৪ গড়ে প্রায় ৯ হাজার রান করেছেন। তন্মধ্যে লর্ডসে তিনি পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের অধিকারী। লর্ডসে ২০ ম্যাচে প্রায় ৪৫ গড়ে ১৪৭৬ রান করেন অ্যালেক। এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে তিন সেঞ্চুরি এবং আট হাফ সেঞ্চুরি আছে তাঁর নামে।

  • জো রুট

টেস্টে ইংল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক জো রুট দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। বেশ ক’বছর ধরেই এই ফরম্যাটে অসাধারণ পারফরম্যান্স করছেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে নিজের জায়গা হারালেও টেস্টে বর্তমানে তিনি সেরাদের একজন। সবশেষ লর্ডস টেস্টে ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।

লর্ডসে এটি ছিলো তাঁর চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরি। লর্ডসে ১৬ ম্যাচে ৫৩ গড়ে ১৪৮৪ রানের মালিক রুট। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত ১০৭ টেস্টে ৯১০০ ও ১৫২ টেস্টে ৬১০৯ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।

  • অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস

সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস লর্ডসে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় আছেন তিনে। তিনি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুটাও করেছিলেন এই লর্ডসের মাটিতেই। এবং নিজের খেলা প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন তিনি। চতুর্থ ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে লর্ডসে অভিষেকে সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন স্ট্রাউস।

তাঁর অধীনে ২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজে ২-১ এ জয় পায় ইংলিশরা। ওই সিরিজের প্রথম টেস্টে লর্ডসে তিনি ১৬১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। লর্ডসে ১৮ ম্যাচে ৫২ গড়ে ১৫৬২ রান করেছেন স্ট্রাউস। তার মধ্যে আছে পাঁচ সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ সেঞ্চুরি।

  • অ্যালিস্টেয়ার কুক

টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনিংয়ে ইংলিশদের অন্যতম ভরসা ছিলেন অ্যালাস্টিয়ার কুক। ঐতিহাসিক লর্ডসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি। লর্ডসে ২৬ ম্যাচে ৪৩ গড়ে ১৯৩৭ রান করেছেন তিনি।

১২ হাফ সেঞ্চুরির সাথে এই মাঠে তিনি করেছেন ৪ টি সেঞ্চুরি। টেস্টে এখন ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি। একই সাথে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্টে ১২ হাজার রানের মালিকও তিনি। পুরো ক্যারিয়ারে ১৬১ টেস্টে ৪৫ গড়ে ১২, ৪৭২ রান করেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক।

  • গ্রাহাম গুচ

সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান গ্রাহাম গুচ যে সময়ে খেলে গেছেন তখন ২২ গজে ক্যারিবিয়ানদের দাপট চলতো। সে সময়ে পেস অ্যাটাকে সেরা অস্ত্র ছিলো ক্যারিবিয়ানদের। ইংল্যান্ডের হয়ে গুচ প্রায় দুই দশকের কাছাকাছি সময় খেলেছেন। ইংল্যান্ডের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।

ঐতিহাসিক লর্ডসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও তিনি! তিনি প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে লর্ডসে ২০ ম্যাচ খেলেন। লর্ডসে খেলা ২১ ম্যাচে ২০১৫ রান রান করেন গুচ! যেখানে আছে ৬ সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৫ হাফ সেঞ্চুরি।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link