১২ বলে প্রয়োজন ২৩ রান। এমন সময়ে বোলিং প্রান্তে লিকলিকে গঢ়নের মুস্তাফিজুর রহমান। খুশদিল শাহ প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে অপ্রস্তুত করে দিলেন কাটার মাস্টারকে। কিন্তু তবুও তিনি বিচলিত হলেন না। নিজের কাজটা করে গেলেন। ওই ওভারে আর মাত্র পাঁচটি রানই নিতে পারলেন করাচি কিংসের ব্যাটাররা।
ম্যাচের ১৯ তম ওভারে নিজের স্নায়ুচাপকে নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়। কিন্তু সবই ফিকে হয়ে যায় দলের দোষে। পাঁচ রানের পেনাল্টিতেই ওলট-পালট হয়ে যায় ম্যাচ ভাগ্য, বিনষ্ট হয় মুস্তাফিজের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ের এক কৃতীত্ব। তবে ওই ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ার আগে মুস্তাফিজ কিন্তু ঠিকই লাহোর কালান্দার্সকে রেখেছিলেন ম্যাচের মধ্যে।
বাংলাদেশের দ্য কাটার মাস্টার যে একজন সাক্ষাত ম্যাচ উইনার- সে দৃষ্টান্ত তিনি প্রায় স্থাপন করেই ফেলেছিলেন। আগে ব্যাটিং করে লাহোর কালান্দার্স দিয়েছিল মোটে ১২৯ রানের টার্গেট। এত স্বল্প লক্ষ্যমাত্রায় ম্যাচ জেতানো ভীষণ কষ্টসাধ্য কাজ। তবে মুস্তাফিজের কাছে ওসব মামুলি ডাল-ভাত।

নিজের প্রথম ওভারে এক রানের বিনিময়ে মুস্তাফিজ তুলে নেন সাদ বেগের উইকেট। দ্বিতীয় ওভারে দেন মাত্র পাঁচটি রান। এরপর বোলিংয়ে আসেন স্লগ ওভারে। ১৭ তম ওভারটায় পাঁচ রান দিয়ে তিনি জমিয়ে তোলেন ম্যাচ। তার আগে অবশ্য এক জমাট জুটির ভাঙন ধরিয়েছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি।
তবে নিজের প্রথম তিন ওভারে ১১ রান দেওয়া মুস্তাফিজ, ম্যাচের ১৯ তম ওভারে স্রেফ নয় রান হজম করেন, শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচি কিংসের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। কিন্তু বল টেম্পারিংয়ের দায়ে পাঁচ রানের পেনাল্টি যুক্ত হয় করাচি কিংসের স্কোরবোর্ডে। তাতেই যেন পাশার দান পালটে যায়।
নতুবা মুস্তাফিজ জয়ের মঞ্চটা প্রস্তুত করেই দিয়েছিলেন লাহোর কালান্দার্সকে। কিন্তু কূটচালে বলিতে আড়াল হয়ে গেল মুস্তাফিজের অনবদ্য আরও এক পারফরমেন্স। তাতে অবশ্য মুস্তাফিজের আফসোস হওয়ার কথা নয়, এমন পারফরমেন্স যে তিনি হরহামেশাই করেন।











