মুস্তাফিজুর রহমানের ফুরিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন সরব হয় পান থেকে চুন খসলেই। সময় আর ইনজুরি তাকে কাবু করেছে, কাটারের ধার কমিয়েছে অনেকটাই। কিন্তু তবুও মুস্তাফিজ একেবারে মলিন হয়ে যাননি বৃষ্টি ঝড়া মেঘের মত। এখনও বর্ষণের যথেষ্ট রসদ ধারণ করে আছেন বাংলাদেশের এই বা-হাতি পেসার।
তা প্রমাণের জন্য যেন ২০২৫ সালকেই বেছে নিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। স্বেচ্ছায় টেস্ট ক্রিকেট খেলেননা। সবাইকে যে সব ফরম্যাট খেলতে হবে এমন তো কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তাই সাদা বলের ক্রিকেটেই মুস্তাফিজের সমস্ত মনোযোগ, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে। ওই ফরম্যাটেই তো তার বিশ্বজোড়া সুখ্যাতি।
সেই খ্যাতি যে নিছক মরিচীকা নয়, সে প্রমাণ তিনি রেখেছেন চলতি বছরে। এই বছর ছয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন মুস্তাফিজ। এই সময়ে তার ইকোনমি রেট মাত্র ৩.৯৪। অর্থাৎ ছয় ম্যাচে গড়ে ওভারপ্রতি চার রানও খরচা করেননি তিনি। এই সময়ে ২২ ওভার ২ বল করেছেন দ্য কাটার মাস্টার। বিনিময়ে রান বিলিয়েছেন মাত্র ৮৮টি।

মারকাটারি টি-টোয়েন্টির এই যুগে এমন বোলিং প্রশংসার দাবি নিশ্চয়ই রাখে। এমন নয় যে মুস্তাফিজ এই ছয় ম্যাচের ছয়টিই খেলেছেন মিরপুরের উইকেট। তাচ্ছিল্যের জন্যে মিরপুরকে আলোচনায় নিয়ে আসার একটা প্রচলন তো রয়েছে। কিন্তু মুস্তাফিজের খেলা ছয় ম্যাচের ভেন্যুর কন্ডিশনে বেশ ভিন্নতাও ছিল। আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ- তিন ভিন্ন দেশে খেলেছেন তিনি।
এর মধ্যে বাংলাদেশের সিলেটে তিনি সর্বশেষ ম্যাচটি খেলেছেন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। মিরপুরে খেলেছেন মাত্র দুইটি ম্যাচ। সেই দুইটি ম্যাচ বাদ দিলেও, তার ইকোনমি রেট দাঁড়ায় ৪.৪৮। চমকপ্রদ বিষয় হচ্ছে ওভারপ্রতি পাঁচ রানের কোটা তিনি পার হতে দেননি। উইকেট সংখ্যাও নেহায়েত মন্দ নয়। আট খানা উইকেট আছে তার ঝুলিতে।
তবে রানের নদী এভাবে শুকিয়ে দেওয়ার পর অপরপ্রান্ত থেকে বাকিরা উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিতেও ভূমিকা রেখেছে। আর এই জয় প্রাপ্তির দিক থেকে তো মুস্তাফিজ এখন সবার উপরে। বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জয়ের সাক্ষী এখন মুস্তাফিজ।

সাকিব আল হাসান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের মত চরিত্রকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। মুস্তাফিজের আগে ৫২টি জয়ের সারথী ছিলেন সাকিব। এছাড়া লিটন দাস ও রিয়াদরা ৪৯টি টি-টোয়েন্টি জয় দেখেছিলেন বাংলাদেশের জার্সি গায়ে। মুস্তাফিজের এক দশকের ক্যারিয়ারের উত্থান-পতনের মাঝেও তিনি টিকে আছেন।
সময়ের সাথে বিবর্তিত হয়ে টিকে থাকার লড়াইটা এখনও চালু রেখেছেন। অতএব খারাপ দিনে তাকে তিরস্কারের অগ্নিকূণ্ডে ছুড়ে দেওয়া বাড়াবাড়ি। মেঘের ছুটে চলায় প্রতিদিন কি আর বর্ষণ হয়!











