নাহিদের গতিতে ছারখার জিম্বাবুয়ে!

বাংলাদেশের একাদশে আরও বোলার থাকলেও সব আলো একাই কেড়ে নেন নাহিদ। একমাত্র টেস্ট না খেলার কারণে নিজের ভেতরে যে ক্ষুধা জমেছিল তাঁর সবটাই উসুল করে নেন এই ম্যাচে।

জিম্বাবুয়েকে যথার্থ জবাব দেওয়ার জন্যে নাহিদ রানার চেয়ে সেরা অস্ত্র হতেই পারত না। টেস্টে লজ্জার হারের পর একটা মোক্ষম জবাব দেওয়ার অপেক্ষায় ছিল বাংলাদেশ। সেই কাজটা একা হাতেই করে দিলেন নাহিদ। তাঁর দূরন্ত গতিতে ছারখার করলেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ।

প্রথম ওয়ানডেতে শুরুতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং প্রথম থেকেই ছিল টলোমলো। ইনিংসের ১৪তম ওভারে বল হাতে আরও ধ্বস ডেকে আনেন নাহিদ। প্রথম বলেই বোকা বনে যাওয়া সিকান্দার রাজাকে নুরুল হাসান সোহানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরের রাস্তা দেখান।

সেইখান থেকেই যেন উইকেট নেওয়ার গল্পের শুরু নাহিদের। পরের ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরান ওয়েসলে মাধেভিরেকে। এর অল্প পরেই নাহিদের গতির সামনে পরাস্ত হন ক্লাইভ মাদান্ডে।

এইখানেই গল্পটা চাইলে থেমে যেতে পারতো। কিন্তু, জিম্বাবুয়ের বাকি ব্যাটারদেরও যেন আত্মসমপর্ণ করানোর ইচ্ছা জাগলো নাহিদের মধ্যে। ক্রিজে কিছুটা থিতু হতে থাকা ইনোসেন্ট কাইয়াকে ফেরান নিজের ষষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে। সেই ওভারের শেষ বলেই ব্র্যাড ইভান্সকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফাইফার। 

১৪ ইনিংসেই তিনবার পাঁচ উইকেট। এর চেয়ে কম সময়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন কেবল একজন বাংলাদেশি বোলার। তিনি মুস্তাফিজুর রহমান। ক্যারিয়ারের প্রথম তিন ফাইফার তিনি নেন মাত্র নয় ম্যাচেই। এই রেকর্ড নাহিদ রানা ভাঙতে না পারলেও যেভাবে এগোচ্ছেন, তাতে ভবিষ্যতে আরও অনেক রেকর্ড নি:সন্দেহে ভাঙবেন।

একমাত্র টেস্ট না খেলার কারণে নিজের ভেতরে যে ক্ষুধা জমেছিল তাঁর সবটাই উসুল করে নেন এই ম্যাচে। তাঁর চিরচেনা ঝড়ো গতি আর দারুণ নিয়ন্ত্রণের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link