ব্রাজিলকে শোধরাতে পারবেন কি আনচেলত্তি?

একসময় যে ব্রাজিল মাঝমাঠের জাদুতে বিশ্ব ফুটবল শাসন করত, সেই দলই এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। প্রশ্নও তাই আরও জোরালো: কার্লো অ্যানচেলত্তি কি সত্যিই সাম্বাদের পুনর্জন্ম ঘটাতে পারবেন?

একসময় যে ব্রাজিল মাঝমাঠের জাদুতে বিশ্ব ফুটবল শাসন করত, সেই দলই এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ধরাশায়ী হয়েছে। প্রশ্নও তাই আরও জোরালো: কার্লো আনচেলত্তি কি সত্যিই সাম্বাদের পুনর্জন্ম ঘটাতে পারবেন?

বিশ্বকাপে এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও পৌঁছাতে পারেনি ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে বিদায় ছিল হতাশাজনক, আর তাতে দুর্ভাগ্যের কোনো অজুহাতও নেই। গত বছর আর্জেন্টিনার কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি বাছাইপর্বে ছন্দ ফিরিয়েছিলেন সেলেচাওদের। ১৬ ম্যাচে ১০ জয়ও এসেছে। কিন্তু বড় মঞ্চে সেই উন্নতির প্রতিফলন দেখা গেল না।

সমস্যার কেন্দ্রবিন্দু মাঝমাঠ। একসময় সৃজনশীলতার প্রতীক থাকা ব্রাজিলীয় মিডফিল্ড এখন কল্পনাশক্তিহীন ফুটবল খেলছে। নরওয়ের বিপক্ষে বলের দখল ও পাসিংয়ে পিছিয়ে পড়া সেই সংকটই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে।

ক্যাসেমিরোকে দলে ফিরিয়ে কিছু ভারসাম্য পেলেও তাঁর গতির সীমাবদ্ধতা বারবার চোখে পড়েছে ফুটবল বোদ্ধাদের। লুকাস পাকেতার চোটও ছিল বড় ধাক্কা। তাঁর বিকল্প খুঁজে না পেয়ে আক্রমণকে প্রায় পুরোপুরি পাল্টা আক্রমণনির্ভর করে ফেলেন আনচলত্তি। তবে তাতেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি।

নেইমারকে ফেরানো কিংবা নেইমারকে প্রাধান্য দেওয়া নিয়েও আনচেলত্তির দিকে তোপ দাগছেন অনেকে। ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন থাকা সত্ত্বেও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলানো কৌশলগত ভুল বলেই মনে করছেন অনেকে। নেইমারের উপস্থিতিতে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এন্ডরিক কে স্বাভাবিক অবস্থান ছাড়তে হওয়ায় সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করলেও নেইমারের বিদায়বেলার পারফরম্যান্স ব্রাজিলকে আশার চেয়ে হতাশাই দিয়েছে বেশি।

তবু আনচেলত্তি হাল ছাড়ছেন না। তাঁর বিশ্বাস, এটাই শেষ নয়; বরং নতুন শুরু ২০৩০ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য। তবে সেই যাত্রায় ব্রাজিলের প্রয়োজন শুধু ছোটখাটো মেরামত নয়, গোটা দলকে নতুন করে গড়ে তোলার সাহসী অস্ত্রোপচার। এখন দেখার বিষয়, সেই কঠিন কাজের জন্য আনচেলত্তিই সঠিক মানুষ হয়ে উঠতে পারেন কি-না।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link