হাল্যান্ডের পায়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়

খুব কম ফুটবলারই প্রথম উপস্থিতিতেই ইতিহাসের বইয়ে যোগ করতে পারেন নতুন অধ্যায়। সেই বিরল কাতারেই নিজের নাম তুলে ফেললেন আর্লিং হাল্যান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেননি তিনি, ছুঁয়েছেন অর্ধশতাব্দী পুরোনো এক বিশ্বকাপ কীর্তিকেও।

বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেকেই গোল করেন। কিন্তু খুব কম ফুটবলারই প্রথম উপস্থিতিতেই ইতিহাসের বইয়ে যোগ করতে পারেন নতুন অধ্যায়। সেই বিরল কাতারেই নিজের নাম তুলে ফেললেন আর্লিং হাল্যান্ড। ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু নরওয়েকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেননি তিনি, ছুঁয়েছেন অর্ধশতাব্দী পুরোনো এক বিশ্বকাপ কীর্তিকেও।

রাউন্ড অব সিক্সটিনে ৭৯তম মিনিটে প্রথম গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন হাল্যান্ড। ম্যাচের ৯০তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্রাজিলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত করেন তিনি। যোগ করা সময়ের শেষদিকে নেইমারের পেনাল্টি গোল ব্যবধান কমালেও, ফল বদলাতে পারেনি।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্পটা স্কোরলাইনের বাইরে। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম চার ম্যাচে হাল্যান্ডের গোল এখন সাতটি। ১৯৭০ সালের আসরে জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারের আট গোলের পর প্রথম চার বিশ্বকাপ ম্যাচে এত বেশি গোলের রেকর্ড নেই আর কারোর। এতে করে অভিষেক বিশ্বকাপ নিজেকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলশিকারিদের পাশে বসিয়ে ফেললেন নরওয়ের এই স্ট্রাইকার।

এতেই শেষ নয়। এক বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচজয়ী গোল করে জেগরোজ লাতো, সালভাতোরে ‘তোতো’ স্কিলাচ্চি ও গার্ড মুলারের পাশে জায়গা করে নিয়েছেন হাল্যান্ড। একইসঙ্গে, ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচে আকাশে ভাসা বলের লড়াইয়ে ছিলেন পুরোপুরি অপ্রতিরোধ্য আর্লিং হালান্ড। চারটি এয়ারিয়াল ডুয়েলে অংশ নিয়ে প্রতিটিতেই জয় পেয়েছেন তিনি। শুধু এই ম্যাচেই নয়, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপে অন্তত ১৫টি এয়ারিয়াল ডুয়েলে অংশ নেওয়া স্ট্রাইকারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাফল্যের হার এখন হালান্ডের।

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত হাল্যান্ড বলেন, “হয়তো এই রাত নরওয়ের ইতিহাস লিখে দেবে। সবাই এই মুহূর্তটা উপভোগ করুক। বলটা জালে জড়ানো যেন ঈশ্বরের উপহার ছিল।”

এই বিশ্বকাপে এখন অব্দি হাল্যান্ডের গোলসংখ্যা সাত, যা লিওনেল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের সমান। তবে ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচে এমন বিস্ফোরক সূচনা তাদের কেউই করতে পারেননি। আর এখানেই স্বমহিমায় ভাস্বর আর্লিং হাল্যান্ড।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link