সংগ্রাম আর স্বপ্নপূরণের অমর আখ্যান

বাবার ক্রিকেট খেলতে না পারার আজীবনের অধরা স্বপ্নকে পূর্ণতা দিয়ে বর্তমানে ক্রিকেটের অন্যতম দক্ষ ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন নাসের।হুসেইনের জীবন তাই এক অদম্য যোদ্ধার অমর আখ্যান।

চিকিৎসকরা বলেছিলেন শিশুটি পৃথিবীর মুখ দেখবে না। কিন্তু মায়ের হার না মানা দৃঢ়তায় সংগ্রাম করে পৃথিবীতে আসা সেই ছেলেই যে একদিন ক্রিকেট সাম্রাজ্য শাসন করবেন, তা ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবতে পারেননি। তিনি আর কেউ নন, মাদ্রাজে জন্মানো ইংলিশ ব্যাটার নাসের হুসেইন।

আশ্চর্যজনকভাবে, ক্রিকেটে নাসেরের শুরুটা ছিল তুখোড় লেগ-স্পিনার হিসেবে। মাদ্রাজে শৈশবে কিংবদন্তি ল্যান্স গিবসের বোলিং মোকাবিলারও সুযোগ হয়েছিল তাঁর। কিন্তু, সপরিবারে ইংল্যান্ডে চলে যাওয়ায় সব যেন হঠাৎ করেই বদলে যায়।

একদিন সকালে আবিষ্কার করেন, নিজের সেই বোলিং ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এরপরও হতোদ্যম না হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণে নিজেকে নতুন করে গড়তে নেমে পড়েন মাঠে। হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর টপ অর্ডার ব্যাটার। কবজির অসাধারণ জোর আর কিছুটা অপ্রচলিত টেকনিকে খেলার প্রবণতা সত্ত্বেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি নিয়ে থিতু হন টেস্ট ক্রিকেটে। ব্যস! আর কে থামায় তাঁকে!

১৯৯৯ সালে যখন নাসের ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের নেতৃত্ব নেন, দলটি তখন বিশ্ব টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে। সেখান থেকে অবিশ্বাস্যভাবে খাদের কিনারা থেকে তিনি টেনে তোলেন দলকে।

প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন নাসের মাঠে ছিলেন এক জাদুকরী রণকৌশলী। প্রতিপক্ষকে ধাঁধায় ফেলতে এক ওভারেই চারবার ফিল্ডিং পজিশন বদলাতেন তিনি। মাইক ব্রিয়ারলির পর ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বাগ্মী ও মেধাবী এই দলপতির অধীনেই দলটি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের নয় নম্বর থেকে তিনে উঠে আসে।

মাঠের ভেতরে চিরকাল মেজাজি নাসের সবসময় ছিলেন দলের স্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ। আঙুলের চোট কিংবা অ্যাশেজের ব্যর্থতা—কোনো কিছুই তাঁর খেলার জেদকে দমাতে পারেনি। ২০০৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবনের শেষটাও তিনি করেন রাজকীয়ভাবে। লর্ডসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অপরাজিত এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বিদায় নেন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে।

বাবা জাওয়াদ হুসেইনের ক্রিকেট খেলতে না পারার আজীবনের অধরা স্বপ্নকে পূর্ণতা দিয়ে বর্তমানে ক্রিকেটের অন্যতম দক্ষ ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করছেন নাসের। ইংল্যান্ডের সাদা জার্সিতে সাড়ে ৫ হাজারের ওপরে রান করা নাসের হুসেইনের জীবন তাই এক অদম্য যোদ্ধার অমর আখ্যান।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link