ইংল্যান্ডে যে তরুণ অধিনায়ক ভারতকে ২-২ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজে ফিরিয়েছিলেন, সেই শুভমান গিলের সামনেই এবার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আসন্ন দুই টেস্টে শুধু ম্যাচ জেতানো নয়, ভারতীয় টেস্ট দলের হারানো পরিচয়ও ফিরিয়ে আনতে হবে তাকে।
ইংল্যান্ড সফরটা ছিল গিলের জন্য অনেকটা স্বপ্নের মতো। অস্ট্রেলিয়া সফরের ব্যর্থতার পর বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মতো তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের বিদায়ে হঠাৎ করেই নেতৃত্বের ভার পড়ে তার কাঁধে। কিন্তু অনভিজ্ঞ এক দলকে নিয়ে ইংল্যান্ডে গিয়ে গিল দেখিয়েছিলেন, চাপ সামলানোর সামর্থ্য তার আছে।
তবে সেই সাফল্যের নেপথ্যে বড় ভূমিকা ছিল কোচ গৌতম গম্ভীরের। কঠিন পরিস্থিতিতে গিলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছেন তিনি, দিয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস। কিন্তু এবার সেই ছায়া থেকে বের হয়ে আসার সময় গিলের।

কারণ ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই টেস্টে ভারতের অসহায় আত্মসমর্পণ তাদের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পথ কঠিন করে দিয়েছে। এখন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে সামান্য ভুলও ভারতের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
১৫ আগস্ট গলে টস করতে নামলেই দশমবারের মতো টেস্টে ভারতকে নেতৃত্ব দেবেন গিল। এখন পর্যন্ত ৯ টেস্টে তার নেতৃত্বে ভারত জিতেছে ৫টি, হেরেছে ৩টি, ড্র করেছে ১টি। পরিসংখ্যান খারাপ নয়, কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন অন্য জায়গায়, দলের সিদ্ধান্তে তার নিজের কণ্ঠ কতটা জোরালো?
ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার টেস্টে মাঠে দাঁড়িয়ে নেতৃত্ব নিয়ে যখন কেএল রাহুলকে কার্যত নির্দেশনা দিতে দেখা গিয়েছিল, তখন গিল ছিলেন অনেকটাই নীরব। সেই গিলই এখন বদলেছেন। সতীর্থদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন, নির্বাচনের পরও ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ভূমিকা পরিষ্কার করছেন। এমনকি নিজের পছন্দ-অপছন্দ নিয়েও আগের চেয়ে অনেক বেশি সরব তিনি।

তাই শ্রীলঙ্কা সিরিজটা শুধু আরেকটি টেস্ট সিরিজ নয়। এটা গিলের নিজের পরিচয় তৈরি করার মঞ্চ। গম্ভীরের ছায়ায় নয়, এবার ভারতীয় টেস্ট দলের স্টিয়ারিংটা নিজের হাতেই নিতে হবে শুভমান গিলকে।











