দলবদলের বাজারেও এল ক্ল্যাসিকো!

দলবদলের মৌসুম। সবকিছু ঠিকঠাক। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রদ্রি হার্নান্দেজ উড়াল দেবেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। কিন্তু, না! তার আগেই দৃশ্যপটে হাজির হলো বার্সেলোনা।

দলবদলের মৌসুম। সবকিছু ঠিকঠাক। ম্যানচেস্টার সিটি থেকে রড্রি হার্নান্দেজ উড়াল দেবেন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে। কিন্তু, না! তার আগেই দৃশ্যপটে হাজির হলো বার্সেলোনা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে টেক্কা দিয়ে রড্রিকে দলে ভেড়ানোর দ্বারপ্রান্তে এখন কাতালানরা।

আন্দ্রে গোমেজ, নেইমার, ডেভিড ভিয়ার মতো তারকাদের পেতেও দলবদলের বাজারে এভাবে ‘এল ক্ল্যাসিকো’-তে নেমেছিল এই দুই জায়ান্ট। রড্রির সুবাদে ফিরে দেখা যাক সেদিকে। ক্যালেন্ডারের পাতায় সালটা ২০১৬।

পর্তুগালকে ইউরোপ সেরা বানানো আন্দ্রে গোমেজের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বড় ক্লাবগুলোর নজর নিয়ে যায় তাঁর ওপর। জিনেদিন জিদান ভ্যালেন্সিয়া থেকে তাঁকে রিয়ালে নিয়ে আসতে হয়ে ওঠেন মরিয়া।

কিন্তু, ট্রান্সফার ফি নিয়ে বাঁধে বিপত্তি। ৬৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয় করে গোমেজকে কেনার বিষয়ে লস ব্ল্যাঙ্কোস কর্তৃপক্ষ দ্বিধায় পড়ে যায়। আর এই সুযোগকেই লুফে নেয় বার্সা। ৫৫ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে দলে ভেড়ায় তাঁরা।

ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমার দ্য সিলভা জুনিয়রকে নিয়েও একই ঘটনা ঘটে। ২০১১ সালেই ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তাঁকে পেতে একরকম ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ হাতে প্রস্তুত ছিলেন। আর্থিক ক্ষমতায় রিয়াল এগিয়ে থাকলেও বার্সা কাজ করছিল নীরবে। শেষ পর্যন্ত দুই বছর পর কাতালান এজেন্ট সান্দ্রো রোজেল ও রাউল সানলেহির মধ্যস্থতায় নেইমার বেছে নেন ন্যু ক্যাম্প আর লিওনেল মেসিকে।

আক্রমণভাগে ডেভিড ভিয়া কিংবা রক্ষণে দানি আলভেজের ক্ষেত্রেও গল্পটা একইরকম। ২০০৯ সালে ইউরোজয়ী স্পেনের তারকা স্ট্রাইকার ভিয়াকে দলে নিতে রিয়াল আলোচনা শুরু করে ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে। কিন্তু দর কষাকষির মারপ্যাঁচে পড়ে এক মৌসুম পর বার্সায় নাম লেখান ভিয়া।

২০০৭ সালে সেভিয়ায় খেলা সেলেচাও রাইট ব্যাক দানি আলভেজের ওপর নজর দেয় রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু চিরচেনা ফাঁড়া সেই ট্রান্সফার ফি! দাম কমানোর ব্যাপারে পেরেজের প্রস্তাবে সেভিয়ার অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরবর্তী মৌসুমে রেকর্ড ৩২ মিলিয়ন ইউরোতে তাঁকে কাতালুনিয়ায় নিয়ে আসতে সক্ষম হন পেপ গার্দিওলা।

এবার সেই তালিকায় কি যুক্ত হচ্ছেন রড্রি? ম্যানচেস্টার সিটি মিডফিল্ডার গত জুলাইয়ে রিয়াল মাদ্রিদে পাড়ি জমানোর খুব কাছে চলে গেলেও, বাঁধ সাধেন বার্সা কোচ হ্যানসি ফ্লিক। ব্যক্তিগত আলাপে রদ্রিকে নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আর তাতেই, রিয়ালের সাজানো ছক তছনছ হয়ে যায়।

তারকা খেলোয়াড়দের দাম নিয়ে রিয়ালের ব্যাপক দর কষাকষি, কিংবা বার্সা কোচদের ব্যক্তিগত কারিকুরিতেই ক্যাম্প ন্যুকে বিশ্বসেরারা বারবার নিজেদের ঠিকানায় পরিণত করছেন লস ব্ল্যাঙ্কোসদের ছেড়ে। দলবদলের বাজারে বার্সার কাছে এই হারের বৃত্ত ভাঙবে কবে রিয়ালের?

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link