ইউরোপ সেরাদের আঙিনায় নবাগতদের ধামাকা

ইউরোপের ঘাসে নতুন মৌসুমের বাঁশি বাজতেই যেন খুলে গেল একঝাঁক নতুন গল্পের দরজা। কেউ নামলেন বদলি হয়ে, কেউ প্রথম একাদশে—কিন্তু অভিষেকেই নিজেদের নামটা লিখে ফেললেন ইতিহাসের পাতায়।

ইউরোপের ঘাসে নতুন মৌসুমের বাঁশি বাজতেই যেন খুলে গেল একঝাঁক নতুন গল্পের দরজা। কেউ নামলেন বদলি হয়ে, কেউ প্রথম একাদশে—কিন্তু অভিষেকেই নিজেদের নামটা লিখে ফেললেন ইতিহাসের পাতায়।

পিএসজির জার্সিতে ফেরান তোরেসের শুরুটা হতে পারত নিছক এক পরিসংখ্যান, কিন্তু হয়ে উঠল রূপকথা। রেঁনের মাঠে বিরতির আগেই ২-০ গোলে পিছিয়ে ছিল লুইস এনরিকের দল, উসমান দেম্বেলে তখন যেন হারিয়ে ফেলেছেন নিজেকে। বিরতির পর মাঠে নামলেন তোরেস, আর যেন বদলে গেল ম্যাচের রং। ৭১ ও ৮২ মিনিটে জোড়া গোলে দলকে ফেরালেন সমতায়।

১৯৯৪ সালে এমবোমা আর ২০১২ সালে ইব্রাহিমোভিচের পর অভিষেকে জোড়া গোলের এই কীর্তি গড়া তৃতীয় খেলোয়াড় হয়ে গেলেন স্প্যানিশ এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচ শেষে তার কণ্ঠে ছিল প্রশান্তির সুর, ‘প্যারিসের সমর্থকদের সামনে প্রথম ম্যাচ খেলাটা ছিল বিশেষ কিছু।’

একই রাতে বার্সেলোনার জার্সিতেও লেখা হলো অন্য এক ইতিহাস। এলচের মাঠে ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে অ্যান্থনি গর্ডন নেমেছিলেন বদলি হয়ে, লামিনে ইয়ামালের বদলে। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় প্রথম অ্যাসিস্ট, এরপর আরও চার মিনিট পর দ্বিতীয়টি—মাত্র পাঁচ মিনিটে জোড়া অ্যাসিস্ট করে একবিংশ শতাব্দীতে লা লিগা অভিষেকে এমন কীর্তি গড়া প্রথম ফুটবলার হয়ে গেলেন এই ইংলিশ উইঙ্গার। তার পাশেই আলো ছড়ালেন করিম আদেয়েমিও, বিরতির ঠিক আগে গোল করে নিজের বার্সা অধ্যায়ের শুরুটা রাঙালেন স্মরণীয় করে।

আর রিয়াল মাদ্রিদে মরিনহোর দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুটা যেন সাজানো হলো নাটকীয়তার সব রসদ দিয়েই। এস্পানিওলের মাঠে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের যোগ করা সময়ে বদলি নামা কার্লোস এস্পি বল পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে জড়ালেন জালে। মাত্র একুশ বছর বয়সী এই তরুণের সেই গোলেই রিয়াল পেল ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়, আর মোরিনহো পেলেন নিজের সপ্তম সরাসরি জয় দিয়ে অধিনায়কত্বের অভিষেক শুরু করার বিরল রেকর্ড।

একই সপ্তাহান্তে চারটি ভিন্ন গল্প, কিন্তু সুর একটাই—নতুনদের সাহসী পদচারণা। মৌসুমের প্রথম সপ্তাহেই এমন চমক দেখাল যে এই তরুণেরা, তাদের বাকি মৌসুমটা তবে কতটা রোমাঞ্চকর হতে চলেছে?

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link