ভিনিকে আগলে রাখার চেষ্টা নেইমারের

নেইমার যে সত্যিকারের দলনেতা। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার নিশ্চয়তা নেই, তবুও তিনি আগলে রাখছেন তার অনুজদের, তার অন্যতম সেরা সতীর্থকে।

‘আবার গোল করলে, একইভাবে উদযাপন করবে, কারণ ঠিক একইভাবে আমিও উদযাপন করব।’ ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে সে বার্তাই দিয়ে রেখেছিলেন নেইমার জুনিয়ার। ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলার নিশ্চয়তা নেই, তবুও দলনেতার মত তিনি আগলে রাখছেন তার অনুজদের, তার অন্যতম সেরা সতীর্থকে।

পর্তুগালে গিয়ে বেনফিকার বিপক্ষে গোল করেছিলেন ভিনিসিয়াস। কর্ণার ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ডের সাথে নেচে উদযাপন করেছিলেন ভিনিসিয়াস। এরপরই যেন লিসবনের গ্যালারি আগ্নেয়গিরি হয়ে যায়। বর্ণবাদী বিদ্রুপ ছুড়ে দেওয়া হয় ভিনিসিয়াসের উদ্দেশ্যে। এই রেশ ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সেই ভিনিসিয়াস ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোল করেন। আবারও সেই একই ধাঁচে উদযাপন করেন তিনি। তার প্রতি বর্ণবাদী আচরণের একপ্রকার প্রতিবাদ হিসেবে নেইমারও গোল করে কর্ণার ফ্ল্যাগের সামনে গিয়ে নেচে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এভাবেই সম্ভবত প্রতিকূলতার মাঝে দাঁড়িয়েও আগলে রাখতে হয় অনুজদের। নেইমারই তো সম্ভবত সবচেয়ে ভাল বোঝেন- প্রতিকূলতায় টিকে থাকা কত কষ্ট!

তিনি  নিজেও যে টিকে থাকার লড়াইটা করে যাচ্ছেন। কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল দলে একটু জায়গা পাওয়ার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। ইনজুরিতে বিধ্বস্ত শরীরটাকে নিয়েও সান্তোসের হয়ে গোল করছেন নেইমার, দলকে জেতাচ্ছেন ম্যাচ। ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে, নেইমারের জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে ভাস্কো দা গামাকে হারিয়েছে সান্তোস।

এরপর ব্রাজিলিয়ান এক গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়াতে নেইমার বলেন, ‘আমি নিজেকে প্রস্তুত করতে পরিশ্রম করছি, সেরা ছন্দে ফিরতে চাই।’ তার তীব্র আকাঙ্খা স্পষ্ট। যে করেই হোক তিনি খেলতে চান বিশ্বকাপে। তবে তবুও যদি ভাগ্য বিধাতা সুপ্রসন্ন না হয়, তবে এই ভিনিসিয়াসরাই তো হবেন ব্রাজিলের কাণ্ডারি।

তারা যেন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত না হয়ে পড়েন কোনভাবেই, সে চেষ্টাতেই তো ইউরোপের ঘটনার রেশ ধরে ব্রাজিলের বুকে দাঁড়িয়ে নেইমার সমর্থন জানালেন ভিনিসিয়াসকে। নেইমার যে সত্যিকারের দলনেতা।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link