বাংলাদেশের কোথাও গামিনির ঠাই নেই

শ্রীলঙ্কান এই কিউরেটরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বোর্ড, ফল থেকে তিনি আর আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বে নেই। নিয়ম অনুযায়ী, গামিনিকে দুই মাসের বেতন দিয়ে বিদায় জানাচ্ছে বিসিবি। গত ৩১ অক্টোবর ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দীর্ঘ ১৫ বছরের সম্পর্কের ইতি টানল কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে। শ্রীলঙ্কান এই কিউরেটরের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেছে বোর্ড, ফল থেকে তিনি আর আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্বে নেই। নিয়ম অনুযায়ী, গামিনিকে দুই মাসের বেতন দিয়ে বিদায় জানাচ্ছে বিসিবি। গত ৩১ অক্টোবর ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

২০১০ সালে বিসিবির প্রধান কিউরেটর হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন গামিনি। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট তত্ত্বাবধান করেছেন। বিসিবির ইতিহাসে এক মাঠে এত দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা তিনিই প্রথম। তবে মিরপুরের ধীর ও নিচু বাউন্সের উইকেটের কারণে রান ওঠা কঠিন হওয়ায় গামিনি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত ছিলেন।

বিসিবি সম্প্রতি নতুন কিউরেটর হিসেবে টমি হেমিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেছে। ফলে গামিনিকে রাজশাহী পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চূড়ান্তভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গামিনির সঙ্গে আমাদের চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—শেষ বছরে যদি তাকে না রাখার সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে তাকে দুই মাসের বেতন দিতে হবে। আমরা নিয়ম মেনেই সেই প্রাপ্য পরিশোধ করেছি।’

উইকেট উন্নত করার লক্ষ্যে বিসিবি এর আগে টমি হেমিংকে নিয়োগ দিয়েছিল, কিন্তু, গামিনির সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন। এবার সেই হেমিংকেই নতুন করে নিয়োগ দিয়েছে বোর্ড।

দীর্ঘদিনের কর্মজীবনের ইতি টেনে গামিনি এবার দেশে ফিরছেন। জানা গেছে, বিসিবির দায়িত্ব শেষ করে তিনি ছুটি কাটাতে স্পেনে যাবেন, সেখানে বর্তমানে বসবাস করছেন তার ছেলে। রাজশাহীতে কাজ করতে গামিনির কোনো আপত্তি ছিল না, কিন্তু তাতে বোর্ডই রাজি হয়নি। নিজের ক্ষতিপূরণ বুঝে পেলেই তিনি বাংলাদেশ ছাড়বেন।

লঙ্কান এই কিউরেটরকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনার কোনো শেষ নেই। বলা হয়, বিসিবির লঙ্কান সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন তিনি। মিরপুরের উইকেটের যা দূর্নাম, তাঁর অনেকটাই এই লঙ্কান আম্পায়ার কাম কিউরেটরের। নিজের দায়িত্বের সীমাও ছাড়িয়েছেন অনেকবার। পেসার এবাদতের সাথে দূর্ব্যবহার করেছেন, মিরপুর অ্যাকাডেমির সবুজ ছাউনীতে ভুল উইকেট বানিয়েছেন। সেই তুলনায় বিদায়টায় আর্থিক ভাবে তেমন ক্ষতি হল না গামিনির।

Share via
Copy link