নো লুক শট ডিসকভারড

ধোনি, গাপটিল, ফ্লেচার কিংবা রশিদ খান ‘নো লুক’-এর মতো শট খেললেও, ব্রেভিস শটটাকে নিয়ে গেছেন শিল্পের পর্যায়ে। বলকে সুনিপুণ ব্যাটিং দক্ষতায় অদৃশ্য করে তাঁর মাথা নিচু করে থাকার দৃশ্যটাই স্পষ্ট করে: আফটার স্ট্রোকিং হোয়ার দ্য বল ইজ ওভারলুকড, দেয়ার বিউটি অফ ম্যাক্সিমাম ইমার্জেস!

ক্রিকেটে অনেক শটই এসেছে, একেক ব্যাটার সেসব শটকে নিজের ব্যাটের সাথে জুড়ে নিয়েছেন। রিকি পন্টিংয়ের ট্রেডমার্ক পুল কিংবা মাহেন্দ্র সিং ধোনির হেলিকপ্টার অথবা এবি ডি ভিলিয়ার্সের আনঅর্থডক্স শটগুলো চোখের কোনে লেগে আছে। ক্রিকেট শটের এই বিবর্তনের আরও এক আলোড়নসৃষ্টিকারী সংযোজন নো–লুক শট। বিশেষ করে আধুনিক জামানার ধুমধুমার ক্রিকেটে। আর এই শটকে জনপ্রিয়তার আরও এক ধাপ ওপরে নিয়ে গেছেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস।

বলের লেন্থ ও লাইন আগেভাগে বুঝে নিয়ে সজোরে ব্যাট চালানো, এরপর বল কোথায় যাচ্ছে তা না দেখেই মাথা নিচু করে থাকা, এই অদ্ভুত দৃশ্যই নো–লুক শটকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়। তবে এই শটের ইতিহাসে কোনো একক উদ্ভাবকের নাম লেখা নেই। বরং ক্রিকেটের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাটারের ব্যাটে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা গেছে এমন স্ট্রোক।

বিশেষ করে টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটের আবির্ভাবের পর বদলে যেতে থাকে ব্যাটিংয়ের সংজ্ঞা। দ্রুত রান তোলার তাগিদে ব্যাটাররা প্রচলিত ক্রিকেটীয় শটের বাইরে গিয়ে খুঁজতে থাকেন নতুন নতুন পথ। আর এই সময়েই নো–লুক শটও ধীরে ধীরে নজরে আসতে থাকে। 

এই শটকে মুড়িমুড়কির মতো ব্যবহার করেছিলেন ক্যারিবীয় ব্যাটার আন্দ্রে ফ্লেচার। বিশেষ করে টি–টোয়েন্টিতে তিনি নো–লুক ছক্কাকে এমন এক দৃষ্টিনন্দন স্ট্রোকে পরিণত করেন, যা দর্শকদের আলাদা করে নজর কাড়ে। নো–লুক সিক্সের প্রসঙ্গে অবশ্য ফ্লেচারকে গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক নাম হিসেবেই উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু এই শটকে নিজের ব্যাটিংয়ের স্বতন্ত্র পরিচয়ে পরিণত করার গল্পটা ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের। ‘বেবি এবি’ নামে পরিচিত দক্ষিণ আফ্রিকার এই ব্যাটার নো–লুক শটকে কেবল মাঝেমধ্যে খেলা কোনো বিচিত্র স্ট্রোক হিসেবে দেখেননি। বরং তাঁর ব্যাটিংয়ে এটি হয়ে উঠেছে একেবারে ট্রেডমার্ক। এমনকি ২০২৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে অ্যারন হার্ডির এক ওভারে টানা তিনটি নো–লুক ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি শটটিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। তিনটি ছক্কাতেই ছিল একই দৃশ্য—বল সীমানার বাইরে, আর ব্রেভিসের মাথা নিচের দিকে। 

এরপর ২০২৬ সালের দ্য হান্ড্রেডে লন্ডন স্পিরিটের হয়ে আরও একবার সেই একই কাণ্ড ঘটান ব্রেভিস। ৩০ জুলাই বার্মিংহাম ফিনিক্সের বিপক্ষে ৯৭ মিটারের বিশাল এক নো–লুক ছক্কা হাঁকিয়ে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। শটটি এতটাই দৃষ্টিনন্দন ছিল যে দ্য হান্ড্রেডও সেটিকে দিনের সেরা মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরে।

তবে মজার বিষয়, ব্রেভিসের কাছে নো–লুক শট কোনো পূর্বপরিকল্পিত বিষয় নয়। তাঁর নিজের ভাষায়, এটা অনেকটাই ‘জাস্ট হ্যাপেনস’। ক্রিকেটে অনেক শট এসেছে, কিছু শট আবার নির্দিষ্ট ব্যাটারের নামের সঙ্গে চিরস্থায়ী হয়ে গেছে। নো–লুকও সেই পথেই হাঁটছে। ধোনি, গাপটিল, ফ্লেচার কিংবা রশিদ খান—বিভিন্ন সময়ে এই ধরনের শট খেলেছেন। কিন্তু ডেওয়াল্ড ব্রেভিস সেটিকে নিয়ে গেছেন অন্য এক উচ্চতায়। তাঁর ব্যাটে নো–লুক এখন আর শুধুই একটি শট নয়, এটি তাঁর ব্যাটিংয়ের স্বাক্ষর। 

একসময় যেটি ছিল ব্যাটারদের সৃজনশীলতার বিচ্ছিন্ন এক প্রকাশ, টি–টোয়েন্টির বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে সেটিই ধীরে ধীরে পেয়েছে আলাদা পরিচিতি। আর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস সেই পুরোনো কৌশলকেই বানিয়ে ফেলেছেন নিজের ট্রেডমার্ক—যেখানে বলকে দেখার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, বলকে কোথায় পাঠাতে হবে সেটা আগে থেকে জেনে যাওয়া!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link