প্রথম ১৮ বলে স্রেফ ১৬টি রান নিজের নামের পাশে জড়ো করতে পেরেছিলেন মোহাম্মদ হারিস। এরপর তিনি ইনিংস শেষ করেছেন ৪৩ বলে ৬৬ রান করে। অর্থাৎ পরবর্তী ২৫ বলে অর্ধশত রান তুলেছেন তিনি। কিন্তু শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিই বরং তাকে ধীরগতিতে খেলতে বাধ্য করেছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের অভাবের পেছনে দায়ী খোদ পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট।
মোহাম্মদ হারিস তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে যা কিছু রান করেছেন তার সিংহভাগই করেছেন তিন নম্বরে পজিশনে। কিন্তু সেই তিন নম্বর থেকেই তাকে সরিয়ে দেয় পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট। আর এরপরই যেন রানের খরার শুষ্ক দিনে প্রবেশ করেন হারিস। ওমানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি ১১ ইনিংস পরে।
সেই ১১ ইনিংস আগে তিনি সেঞ্চুরি করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষে। লাহোরের সেই ইনিংসটির পর আবারও বাংলাদেশের বিপক্ষে মিরপুরে খেলতে নেমেছিলেন তিনি। সেখানে তিন নম্বরে ব্যর্থ হন। সেই ব্যর্থতাকে আমলে নিয়ে তাকে লোয়ার অর্ডারে পাঠিয়ে দেয় পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্ট। অথচ মিরপুরে রান করা যেকোন ব্যাটারের জন্যেই প্রায় অসাধ্য সাধন।

তবুও মিরপুরের পারফরমেন্সের কারণে হারিসকে ছাড়তে হয়েছিল তার সবচেয়ে পছন্দের ব্যাটিং পজিশন। এরপর পাঁচ থেকে আট এই পজিশনে তিনি খেলেন ছয়টি ম্যাচ। যথারীতি সেই ছয় ম্যাচে বলার মত কিছুই করতে পারেননি মোহাম্মদ হারিস। ডানহাতি এই ব্যাটার ভুগেছিলেন বেশ। আর সেটা যে তার আত্মবিশ্বাসের প্রভাব ফেলেছিল- তা তো স্পষ্ট। তার নামের পাশে ৪৫ রান যুক্ত করতে তাকে খেলতে হয়েছে আট ইনিংস।
স্বাভাবিকভাবেই অফফর্মের খড়গ মাথায় নিয়ে এশিয়া কাপের মঞ্চে প্রবেশ করেছিলেন মোহাম্মদ হারিস। পাকিস্তানের কিংবদন্তি শহীদ আফ্রিদির একটি মন্তব্যই যেন হারিসকে ফিরিয়েছে তার চেনা ছন্দে। আফ্রিদি বলেছিলেন যে যদি পাওয়ার প্লে-তে পাকিস্তানের উইকেট গেলে হারিসকে যেন তিন নম্বরে পাঠানো হয়। কেননা তিনি ফাস্ট বল অপেক্ষাকৃত ভাল খেলেন। আফ্রিদির সেই মন্তব্যের যথার্থতা প্রমাণ করলেন হারিস।
অতএব তাকে অযথাই লোয়ার অর্ডারে ঠেলে না দিয়ে বরং তিন নম্বরেই পাঠানো উচিত। তাতে আখেরে পাকিস্তানেরই হবে ফায়দা। ওমানের বিপক্ষে একটু ধীরলয়ের শুরুর পর তিনি তার ব্যাটিং গিয়ার পরিবর্তন করেছেন। আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার হলে ইনিংসের দ্বিতীয় ভাগের আগ্রাসন শুরু থেকেই মঞ্চস্থ করার সামর্থ্য অন্তত মোহাম্মদ হারিস রাখেন।












