‘বাস্তবতা’ আঘাত হেনেছে বাংলাদেশ দলে। এই অবস্থায় সব সময়ের মত ‘পরিবর্তন’-ই একমাত্র ভরসা টিম ম্যানেজমেন্টের। তবে, কোন পথে আসবে পরিবর্তন? বাংলাদেশ দলের সামনে এখন এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে হাজারো প্রশ্নের সমাধানে কি ম্যানেজমেন্ট হারানো দিনের তারকাদের ফেরাবে? নাকি তারুণ্যের পথে হাঁটবে?
এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে ফাইনালে পৌঁছাতে পারেনি বাংলাদেশ। সুপার ফোরেই ছিটকে যাওয়া দলটির সামনে নিশ্চিত পথ একটাই – ‘পরিবর্তন’। যেটা সব সময় হয়। এবারও সেটাই আসন্ন। কারণ মাস ছয়েক পরেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপের আগে দল গোছানোর ডেডলাইন ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ গোছানোর পথেই ছিল। মাঝপথে বাঁধ সেধেছে এশিয়া কাপ, নড়বড়ে হয়ে গেছে দলের মিডল অর্ডার। এখান থেকে উত্তরণের জন্য দু’টো রাস্তা খোলা – ‘প্রায়’ সাবেক হয়ে যাওয়া মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত কিংবা সাব্বির রহমান রুম্মানদের ফিরিয়ে আনা। চলতি এশিয়া কাপে তাঁরা রানও পাচ্ছেন। আরেকটা সমাধান হতে পারে মাহফুজুর রহমান রাব্বির মত তরুণদের বাজিয়ে দেখা। যদিও, তারুণ্য নির্ভর পাইপলাইন এই মুহূর্তে বাংলাদেশের খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ দলকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে দলের ব্যাটিং অর্ডার। বিশেষ করে সুপার ফোরে এই নিয়ে বেশ পরীক্ষা নিরীক্ষাও চালায় দলটি। সেটার খেসারতও দিতে হয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ভার্চুয়াল সেমিফাইনালে ১৩৬ রানের মামুলি লক্ষ্যই তাড়া করা সম্ভব হয়নি।
‘পরিবর্তন’ তাই খেলোয়াড়দের করা দরকার নাকি, মানসিকতা আর পরিকল্পনায় করা দরকার সেটা নিয়ে ভাবা দরকার। ম্যাচ নিজেদের পক্ষে থাকলেও শেখ মেহেদী হাসানকে দিয়ে পাওয়ার প্লে-তে ‘হিট’ করার জন্য পাঠানো যায় না। এই রান তাড়া করতে গিয়ে পাওয়ার প্লে-তে খুব একটা হিট করারও দরকার হয় না। তারপরও নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ‘ভিন্ন’ পরিকল্পনা বা ভিন্ন মাইন্ডসেট নয় বরং ভিন্ন খেলোয়াড়ই খুঁজে বের করতে চাইবে তাঁরা।
প্রশ্নটা সেখানেই, নতুনের আগমন ঘটবে, নাকি পুরনো সেনাদের ওপর ভরসা ফেরানো হবে? ফ্রিজের পুরনো তরকারি গরম করে খাবেন? নাকি নতুন করে রান্না হতে থাকা খাবারটার জন্য অপেক্ষা করবেন? আসছে আফগানিস্তান সিরিজের আগেই এর কিছুটা খোলাসা হবে। যাই হোক না কেন বাংলাদেশের বিশ্বকাপ পরিকল্পনা এখন সুতোর ওপর ঝুলছে, যে কোনো সময় ছিড়ে পড়ে যাবে।










