চার দশকের সবুজ উন্মাদনার অবসান

চলতি বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন পাকিস্তানের আইকনিক চিয়ারলিডার 'চাচা ক্রিকেট' ওরফে আব্দুল জলিল।

চলতি বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন পাকিস্তানের আইকনিক চিয়ারলিডার ‘চাচা ক্রিকেট’ ওরফে আব্দুল জলিল। আগামী সপ্তাহে লাহোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে দেশের মাটিতে ৭৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি ভক্তের বিদায়ী মঞ্চ। চার দশকেরও বেশি সময় গ্যালারি কাঁপানো এই চিরচেনা মুখ এবার অবসরে যাচ্ছেন।

লাহোরে বিদায় নিলেও আব্দুল জলিলের শেষ ইচ্ছা – এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে শেষবারের মতো গ্যালারি থেকে প্রিয় দেশের পতাকা ওড়াবেন। মাঠের জীবন সাঙ্গ করে নিজ শহর শিয়ালকোটের উপকণ্ঠে একটি রেস্তোরাঁ ও জাদুঘর চালু করতে চান তিনি। যেখানে তাঁর সংগ্রহে থাকা দীর্ঘ ৫০ বছরের ক্রিকেট স্মারক প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া জীবনের বাকি সময়টা সমাজসেবামূলক কাজে পার করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

চাচার এই বিদায়ের ভেন্যু লাহোর এক অদ্ভুত আবেগ জড়ানো স্থান। ১৯৬৮-৬৯ সালে এই লাহোরেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচ দেখে ক্রিকেটের প্রেমে পড়েছিলেন তরুণ জলিল। এরপর আশির দশকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানের নিয়মিত গ্যালারির দর্শক বনে যান।

দলের সাম্প্রতিক হতশ্রী পারফরম্যান্স এই পরম ভক্তকে ভীষণভাবে আঘাত করেছে। ভারতের কাছে টানা নয় ম্যাচের পরাজয় এবং ২০২৪ বিশ্বকাপে নিউ ইয়র্কের মাঠে মাত্র ১২০ রান তাড়া করতে না পারার ক্ষত তিনি ভুলতে পারেননি। দলের এই টানা ব্যর্থতার অভিমানেই তিনি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখতে শ্রীলঙ্কা যাননি।

ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন তিনি। বিদায়বেলায় চাচার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে ১৯৮৬ সালে শারজাহর মাঠে চেতন শর্মাকে মারা জাভেদ মিয়াঁদাদের সেই ঐতিহাসিক শেষ বলের ছক্কা। মনে পড়ে যায় ২০১৭ সালে ওভালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের উৎসব।

তিনি বিশ্বাস করেন, পাকিস্তান ক্রিকেটে এই কুয়াশা কেটে সুদিন আসবেই। গ্যালারিতে হয়তো আর দেখা যাবে না সেই সবুজ কুর্তা কিংবা সাদা দাড়ির চিরচেনা অবয়ব। কিন্তু ক্রিকেট যতদিন থাকবে, গ্যালারির নিঃস্বার্থ ভালোবাসার উপাখ্যান হয়ে বেঁচে থাকবেন এই ‘চাচা ক্রিকেট’।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link