প্রস্তুতি ম্যাচে তামিম-মুশফিকদের ব্যাটে রান

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরু হওয়ার আগে চূড়ান্ত প্রস্ততি নিতে নিজেদের ভিতর ভাগ হয়ে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়েছেন লাল দলের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করেছে তামিম ইকবালের দল।

কতুনায়েকে চিলাও ম্যারিয়ানস ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে সকালে শুরু হওয়া ম্যাচে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্বান্ত নেয় লাল দল। ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে সবুজ দলের বোলারদের কোন সুযোগই দেননি দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। বিশেষ করে তামিম ইকবাল ছিলেন অনেকটাই আগ্রাসী। দিনের প্রথম সেশনেই ৬৩ রান করে স্বেচ্ছায় বিশ্রামে যান লাল দলের অধিনায়ক।

প্রথম সেশনে ১০০ রান করার পর দ্বিতীয় সেশনে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর হাফ সেঞ্চুরিতে ১০৪ রান সংগ্রহ করে লাল দল। এই দুজনও হাফ সেঞ্চুরি করার পর অন্যদের ব্যাটিংয়ের সুযোগ দিতে স্বেচ্ছায় বিশ্রামে যান। বিশ্রামে যাওয়ার আগে সাইফ হাসান করেন ৫২ রান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান।

দিনের শেষ সেশনে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে বিশ্রামে যান মুশফিকুর রহিমও। মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৬৬ রান। সেচ্ছায় বিশ্রামে যাওয়া আরেক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান করেন ৪৮ রান। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ অপরাজিত থাকেন ২৪ রান করে।

লাল দলের উইকেটের ঘরে ৬ লেখা থাকলেও পাঁচ ব্যাটসম্যানই হয়েছেন রিটায়ার্ড আউট। সবুজ দলের পক্ষে একমাত্র উইকেট পেয়েছেন শুভাগত হোম। উইকেটের পিছনে ক্যাচ দিয়ে ২ রান করে আউট হয়েছেন তাইজুল ইসলাম।

  • সংক্ষিপ্ত স্কোর 

লাল দল: ৩১৪/৬ (ওভার: ৭৯.২; তামিম- ৬৩, সাইফ- ৫২, নাজমুল- ৫৩, মুশফিক- ৬৬, সোহান- ৪৮, মিরাজ- ২৪*, তাইজুল- ২) (এবাদত- ১০-৩-২৪-০, শরিফুল- ১০-৩-৪২-০, মকিদুল- ১৩-০-৬১-০, নাইম- ১৬-২-৭২-০, মুমিনুল- ৮-০-৩১-০, শুভাগত- ১১.২-০-৪৬-১)

সবুজ দল: সাদমান ইসলাম অনিক, লিটন কুমার দাস, মোহাম্মদ মিথুন, মমিনুল হক(অধিনায়ক) ইয়াসির আলী রাব্বি, শুভাগত হোম, নাঈম হাসান, শরিফুল ইসলাম, মকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, শহিদুল ইসলাম ও এবাদত হোসেন।

লাল দল: তামিম ইকবাল(অধিনায়ক) মুশফিকুর রহিম, নাজমুল হাসান শান্ত, সাইফ হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ, আবু জায়েদ রাহী, খালেদ।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link