রসদ আছে, আছে ক্ষুধা, এবার শুধু পিএসজির জেতার পালা

একটা শিরোপা জেতার জন্যে কতকিছু করা যায়! এক দলবদলে লিওনেল মেসি, সার্জিও রামোস, জিয়ানলুইজি ডোন্নারুমাদের একসাথে দাঁড় করানো যায় পার্ক দে প্রিন্সেসে। কিন্তু তবুও রুপালি রঙা সেই ট্রফিটা থেকে যায় অধরা।

একটা শিরোপা জেতার জন্যে কতকিছু করা যায়! অঢেল অর্থের ঝুলি খুলে নেইমার জুনিয়রকে দলে আনা যায়। দেশের প্রধানের হস্তক্ষেপে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে জোর করে দলে রাখা যায়। এক দলবদলে লিওনেল মেসি, সার্জিও রামোস, জিয়ানলুইজি ডোন্নারুমাদের একসাথে দাঁড় করানো যায় পার্ক দে প্রিন্সেসে।

কিন্তু তবুও রুপালি রঙা সেই ট্রফিটা থেকে যায় অধরা। শুধু তারকা দ্বারা শিরোপা জেতা গেলে তো প্রায় প্রতিটা বিশ্বকাপ জেতার কথা ব্রাজিলের। তবে তেমনটি তো আর ঘটে না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মত কঠিন ট্রফি জিততে হলে প্রয়োজন, প্রবল ইচ্ছেশক্তি।

প্যারিস সেইন্ট জার্মেই অবশ্য সেই আকাঙ্খা নিজেদের মধ্যে ধারণ করে। কিন্তু সেটা সীমাবদ্ধ দলের ম্যানেজমেন্টের মধ্যে। খেলোয়াড়দের মধ্যেও তো সঞ্চারিত হওয়া উচিত সেই তাড়না। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট থেকে খেলোয়াড়দের মাঝের ব্রিজ হতে হয় একজন দক্ষ কোচকে, ইউরোপিয়ান ফুটবলের ভাষায় একজন ম্যানেজারকে।

লুই এনরিকে যেন সেই ব্রিজ হতে পারলেন বহুল প্রতিক্ষা শেষে। যদিও পিএসজি এখনও সেই রুপালি শিরোপায় চুমু এঁকে দেয়নি। তবে সম্ভাবনা তো তাদেরই প্রবল। ইতিহাসে দ্বিতীয়বার তারা উঠেছে ইউরোপীয়ান ক্লাব শ্রেষ্ঠত্বের ফাইনালে। কিন্তু এতটা দাপট তো তারা ২০১৯/২০ মৌসুমেও দেখাতে পারেনি।

যদিও নতুন ধাঁচের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম পর্বে ধুকেছে দলটি। কোন মতে প্লে-অফ খেলে তবেই নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে পেরেছিল তারা। এরপরই যেন বদলে যেতে শুরু করে সমস্ত দৃশ্যপট। দুর্বার এক গতিশীল যুদ্ধজাহাজে পরিণত হয় গোটা দল। আর সেই জাহাজের নেতৃত্বে আছেন ওসমান ডেম্বেলে।

প্লে-অফ থেকে নকআউট ভেবেই ম্যাচ খেলেছে পিএসজি। এরপর থেকে ফাইনাল অবধি তারা গোল করেছে ১৯ খানা গোল করেছে। যদিও এর অধিকাংশ দাপটের ভুক্তভোগী ফরাসি লিগের ক্লাব স্টেড ব্রেয়েস্তোয়া। দশখানা গোল হজম করতে হয়েছে তাদেরকে।

সেসব ছাপিয়ে প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই পিএসজির আক্রমণভাগ ভয় ধরিয়েছে প্রতিপক্ষের হৃদয়ে। কম্পনের মাত্রা বাড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে। এর মধ্যে স্রেফ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন লিভারপুল পিএসজিকে দিয়েছিল উলটো ভয়। টাইব্রেকারে জিততে হয়েছিল তাদের বিপরীতে।

এছাড়া প্রায় প্রতিটি বাঁধা বেশ অনায়াসে ডিঙিয়ে মিউনিখ ফাইনালের টিকিট কেটেছে লুই এনরিকের শীষ্যরা। এবার তারা শিরোপা জয়ের অন্যতম দাবিদার বটে। তাদের আক্রমণভাগকে রুখে দিতে সিমিওনে ইনজাঘির ইন্তার মিলানকে বেশ ঝক্কি পোহাতে হবে তা অনুমিত।

এবারই হয়ত পিএসজির হাতে সুবর্ণ সুযোগ- ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিজেদের মাথায় তোলার। ডাগআউটে রয়েছেন মাস্টারমাইন্ড লুই এনরিকে। আক্রমণে রয়েছেন ওসমান ডেম্বেলে, ব্রেডলি বার্কোলা, গোলবারে জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা। ভিতিনহা আর ফ্যাবিয়ান রুইজদের মিডফিল্ডও রয়েছে দারুণ ছন্দে। শিরোপা উৎসবে মাতোয়ারা হবে প্যারিস, সব ভালর মেলবন্ধনে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link