ক্রিকেট বিশ্বে টাকার ঝনঝনানি আর গ্ল্যামারের কথা উঠলেই সবার আগে মাথায় আসে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এর নাম। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বর্তমান চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি যেন এক ভিন্ন জগতের বাসিন্দা। তার দাবি, খুব শীঘ্রই পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) বিশ্ব ক্রিকেটের এক নম্বর লিগ হিসেবে আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে!
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত পিসিবির বোর্ড অব গভর্নরস বৈঠকে মহসিন নাকভি সাহসিকতার সাথে ঘোষণা করেন, ‘সেই সময় আর বেশি দূরে নয়, যখন পিএসএল বিশ্বের সেরা ক্রিকেট লিগের মুকুট মাথায় পরবে।’ তাঁর এই মন্তব্যের পেছনে যুক্তি হিসেবে তিনি বিনিয়োগকারীদের প্রবল আগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন।
নাকভির এই বিশ্বাসের পালে কিছুটা হাওয়া দিয়েছে এবারের ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলাম। আট দলের বর্ধিত আসরে শিয়ালকোট এবং হায়দ্রাবাদ থেকে দুটি নতুন দল যুক্ত হয়েছে। ওজেড ডেভেলপারস ১.৮৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে কিনেছে শিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ এবং এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপিতে মালিকানা নিয়েছে হায়দ্রাবাদ কিংসম্যানের। শিয়ালকোটের নাম পাল্টে পরে রাখা হয় মুলতান সুলতান্স।

কিন্তু, নাকভির এই রঙিন স্বপ্ন কি বাস্তবের রুক্ষ মাটিতে পা রাখতে পারবে? পরিসংখ্যান কিন্তু বলছে ভিন্ন বাস্তবতা। আইপিএল এবং পিএসএলের বর্তমান অর্থনৈতিক খতিয়ান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুই লিগের ব্যবধানটা অনেকটা পাহাড় আর ছোট মাটির ঢিবির মতো।
হিসাব বলছে, আইপিএলের মাত্র সাতটি ম্যাচের আয় পিএসএলের পুরো চার বছরের চুক্তির চেয়েও বেশি। যেখানে আইপিএল ১২টি শহরে গ্যালারি ঠাসা দর্শক নিয়ে উৎসব পালন করে, সেখানে এবারের পিএসএল ২০২৬ কে লড়তে হচ্ছে দেশের জ্বালানি সংকটের সাথে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, মাত্র দুটি ভেন্যুতে এবং দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজন করতে বাধ্য হচ্ছে পাকিস্তান।
কেবল অর্থ নয়, বিশ্বসেরা তারকাদের টানার দৌড়েও পিএসএল বেশ পিছিয়ে। বাস্তবতা হলো, আইপিএলে যারা দল পান না, তারাই পিএসএলের প্রাথমিক ভরসা। এমনকি পিএসএলের সাথে চুক্তি থাকার পরেও কোনো খেলোয়াড় যদি আইপিএল থেকে ডাক পান, তবে সেই লোভনীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য বর্তমান পিএসএলের নেই।

উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেকোনোর লিগের এগিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরী। মহসিন নাকভির এই স্বপ্ন পাকিস্তানি ক্রিকেট ভক্তদের উদ্দীপ্ত করতেই পারে। তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিশাল আর্থিক ব্যবধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইপিএলকে টপকে যাওয়াটা বর্তমানে কেবল স্বপ্নই না, বরং এক অর্থহীন এবং অযৌক্তিক দিবাস্বপ্ন।











