ফাইনাল হারের ক্ষত মুছতে পারবে কোয়েটা?

২০১৯ সালের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পর টানা চার বছর প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার বিষাদ কাটিয়ে গত দুই মৌসুমে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ২০২৬ পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসরে কোয়েটার রণকৌশল এবার কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া রাজমুকুট পুনরুদ্ধারের।

দীর্ঘদিন মরুর তপ্ত বালুচরে পথ হারানো এক যাযাবরের মতো কাটানোর পর, অবশেষে সাফল্যের সবুজ ঘাসের দেখা পেতে শুরু করেছে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স। ২০১৯ সালের সেই সোনালী ট্রফি জয়ের পর টানা চার বছর প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নেওয়ার বিষাদ কাটিয়ে গত দুই মৌসুমে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। ২০২৬ পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসরে কোয়েটার রণকৌশল এবার কেবল অংশগ্রহণ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া রাজমুকুট পুনরুদ্ধারের।

কোয়েটা এবার পরিবর্তন নয়, বরং স্থায়িত্বের পথে হেঁটেছে। গত বছরের সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে নেতৃত্বের ব্যাটন রাখা হয়েছে সৌদ শাকিলের হাতেই। সাথে আছেন দলের দীর্ঘদিনের সেনানি এবং মিডল অর্ডারের অতন্দ্র প্রহরী রাইলি রুশো। দলের এই স্থিতিশীলতাই এবার তাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা।

ওপেনিংয়ে সৌদ শাকিলের সাথে থাকছেন তরুণ তুর্কি শামিল হোসাইন। মিডল অর্ডারে রাইলি রুশোর অভিজ্ঞতার সাথে গত আসরে কোয়েটার হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হাসান নওয়াজ কিংবা খাওয়াজা নাফায় এর মতো তরুণ তুর্কিদের বিধ্বংসী ব্যাটিং যে কোনো বোলিং আক্রমণকে তছনছ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

গ্ল্যাডিয়েটর্সদের সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র তাদের স্পিন বিভাগ।আবরার আহমেদ এবং উসমান তারিক – এই দুই মায়াবী স্পিনারের যুগলবন্দী বর্তমানে পাকিস্তানের জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলেরও প্রথম পছন্দ। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপকে বিভ্রান্তির জালে বন্দি করতে এই দুই মিস্ট্রি স্পিনারই হতে পারেন কোয়েটার তুরুপের তাস।

এত শক্তির মাঝেও কোয়েটার শিবিরে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ রয়েছে তাদের পেস আক্রমণ নিয়ে। এক সময় নাসিম শাহ, মোহাম্মদ আমির বা হাসনাইনের মতো গতিদানবদের রাজত্ব ছিল এখানে। সেই তুলনায় বর্তমান পেস বিভাগ কিছুটা ম্লান। আলজারি জোসেফের ওপর বাড়তি নির্ভরতা আর জাহানদাদ খান, টম কারান ও আহমেদ দানিয়ালদের অনভিজ্ঞতা বা চোটপ্রবণতা বোলিংয়ের গভীরতাকে কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

তবে বানিজ্যিক লড়াইয়ে এবার কোয়েটার বিদেশি সংগ্রহ বেশ বৈচিত্র্যময়। স্কোয়াডে আছেন বেন ম্যাকডারমট, স্যাম হার্পার মতো অজি তারকা। সেই সাথে বেভন জ্যাকবস ও কিউই অলরাউন্ডার ব্রেট হ্যাম্পটনের অন্তর্ভুক্তি দলের ভারসাম্য বাড়িয়েছে।

কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স কেবল একটি দল নয়, এটি এক লড়াকু মানসিকতার নাম। গত বছরের ফাইনালের সেই রোমাঞ্চকর হারের ক্ষত নিয়ে তারা এবার মাঠে নামছে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে। গ্ল্যাডিয়েটর্সের সেই হুঙ্কার কি পারবে ২০২৬ এর পিএসএল ট্রফিকে কোয়েটার মরুপ্রান্তরে ফিরিয়ে নিতে? উত্তর তোলা আছে সময়ের হাতে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link