‘কেমন আছো, কলকাতা?’ —আধো আধো বাংলায় চিৎকার করে বললেন রবি শাস্ত্রী। মুহূর্তেই যেন ইডেনের আকাশ কাঁপিয়ে উঠে হাজারো গলার প্রতিধ্বনি। গ্যালারির সমুদ্র একসঙ্গে গর্জে উঠল, ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরু হয়ে গেছে! ক্রিকেটের এই মহোৎসবে প্রত্যেকটা রাতই যেন রঙিন, প্রত্যেকটা ম্যাচ একেকটা সিনেমার মতো নাটকীয়। আর সেই রঙে প্রথম আঁচড় দিলেন রবি শাস্ত্রী — একটু অন্যরকমভাবে, নতুনত্ব এনে।
শহর তখন সন্ধ্যার আলোয় মাখামাখি। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের বাইরে তখনও সমর্থকদের ঢল। কেউ স্লোগান দিচ্ছে, কেউ একঝলক প্রিয় তারকাকে দেখতে উদগ্রীব। কেউ আবার মোবাইলে স্ক্রিনিংয়ের ব্যবস্থা করে নিয়েছে, একটুও মিস করা যাবে না! গ্যালারিতে তখনো আলো-আঁধারি, স্টেডিয়ামের বড় স্ক্রিনে তখন গা ছমছম করা কাউন্টডাউন। আর ঠিক তখনই যেন বাজির ফুলঝুরির মতো গর্জন করে উঠলেন শাস্ত্রী। আর শাস্ত্রী মানেই তো টসে নতুন নতুন নাটক।

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে টস করতে নামলেন দুই অধিনায়ক। একদিকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আজিঙ্কা রাহানে, অন্যদিকে রজত পাতিদারের দল। রজত পাতিদার কয়েনটা ছুড়ে দিলেন, আর সেটার ওপরেই যেন জমে উঠল ক্রিকেট মহোৎসবের প্রথম রঙ। কয়েন পড়তেই ম্যাচ রেফারির ঘোষণা—টসে জিতেছেন পাতিদার।
কলকাতা নাইট রাইডার্স প্রথমে ব্যাট করবে। চিরচেনা স্বর্ণালী রঙের জার্সিতে রাহানে যখন এগিয়ে এলেন, পুরো গ্যালারি তখন ‘কেকেআর! কেকেআর!’ ধ্বনিতে মুখর। ইডেনের বাতাসে যেন ভেসে বেড়াচ্ছে রাহুল দ্রাবিড়, সৌরভ গাঙ্গুলির কলকাতা দিনের স্মৃতি।











