রিশাদ হোসেন, বাংলাদেশের কমপ্লিট প্যাকেজ

ওয়ানডে ক্রিকেটে পূর্ণতা পেলেন রিশাদ হোসেন। তিন ম্যাচের সিরিজে ১২ উইকেট, সাথে ম্যাচ ডিসাইডিং দু’টি নক - বলা যায় রিশাদ হোসেনের ওয়ানডে ক্যারিয়ার এবার ডানা মেলল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনিই যে এখন বাংলাদেশের অবধারিত মেইন ম্যান - সেটা চোখ বন্ধ করেই বলা যায়।

ওয়ানডে ক্রিকেটে পূর্ণতা পেলেন রিশাদ হোসেন। তিন ম্যাচের সিরিজে ১২ উইকেট, সাথে ম্যাচ ডিসাইডিং দু’টি নক – বলা যায় রিশাদ হোসেনের ওয়ানডে ক্যারিয়ার এবার ডানা মেলল। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনিই যে এখন বাংলাদেশের অবধারিত মেইন ম্যান – সেটা চোখ বন্ধ করেই বলা যায়।

রিশাদ হোসেন আসলে সবই পারেন। যখন যেটা দরকার, সেখানে তিনি নিজেকে উজার করে দেন। ব্যাট হাতে প্রয়োজনের সময় ঝড় তুলতে পারেন। দলের অন্য যে কারও থেকে তিনি ফিল্ডিংয়ে তুখোড়। দারুণ সব অ্যাক্রোব্যাটিক ক্যাচ তুলে নেন। তবে, সবচেয়ে বড় ইউএসপি তাঁর বোলিং। লেগ স্পিন দিয়ে বিশ্ব মাতানো রিশাদ হোসেন প্রয়োজনের সময় ব্রেক থ্রু দেন, প্রতিপক্ষকে অপ্রস্তুত করে ফেলেন।

তিনি এই সময়ে বাংলাদেশ দলের সব কাজের কাজী। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় রানটা যেখানে ১৮০-রানে যাওয়াটাই ‍দু:সাধ্য মনে হচ্ছিল – রিশাদ হোসেনের জন্য সেটা চলে গেল ২১৩ রানে। ১৪ বলে ৩৯ রানের ইনিংসটা স্পষ্ট ব্যাটিং পার্থক্য গড়ে দিয়েছিল দু’দলের। তিনটি ছক্কার সবগুলোই যেন প্রতিপক্ষের বুকে একেকটা ছুড়ি হয়ে আঘাত হানে।

রান করেছেন ২৭৮.৫৭ স্ট্রাইক রেটে, যেটা ওয়ানডেতে এক ইনিংসে কমপক্ষে ৩০ রান করা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। কে বলবে, এই উইকেটে দুই দলের বাকি সব ব্যাটারই রান তুলতে হিমশিম খেয়েছেন বারবার। তৃতীয় ম্যাচে তিনি উইকেটে আর কিছুক্ষণ থাকলেই হয়তো বাংলাদেশের স্কোরটা দিব্যি চলে যায় ৩০০ রানের ওপরে।

বল হাতে যথারীতি তিনি সরব। আগের দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতাই রাখলেন যেন, এবারও নিলেন তিন উইকেট। সিরিজ জুড়ে ১২ উইকেট। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বলে বসতে পারে, তারা সিরিজটায় হারল রিশাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের সামনে।

ব্যাটিং আর ফিল্ডিং মিলিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের জন্য বারবার হয়ে ‍ওঠেন দুর্বোধ্য। এমন একজন ক্রিকেটারকে যে কোনো দলই নিজেদের দলেই চাইবে। বাংলাদেশ দলের সৌভাগ্য, পরম আরাধ্য সেই ক্রিকেটারটি লাল-সবুজ জার্সি গায়ে চাপিয়ে খেলেন।

Share via
Copy link