দ্য হিটম্যান- প্রলয়ের নটরাজ। বটবৃক্ষ রোহিত শর্মার আগ্রাসনের বিস্তৃত ডালপালার নিচে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলিং শিবির ভুগেছে অক্সিজেনের অভাবে। ওয়াংখেড়েকে রোহিত বানিয়ে ফেলেছিলেন এক বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার। কলকাতার বোলাররা নিশ্চয়ই চাপা আর্তনাদে মনে মনে বলেছে, ‘ছেড়ে দে রোহিত, একটু কেঁদে বাঁচি!’
৭৮ রানে তিনি যখন দৃপ্ত পায়ে হেঁটে বেড়িয়ে যাচ্ছিলেন, তখনও কলকাতার ফিল্ডাররা এগিয়ে এসে পিঠ চাপড়ে দিয়েছেন। একটু হাঁফ ছেড়ে বাঁচার দীর্ঘশ্বাসের সাথে ছিল দারুণ এক ইনিংস দেখার সৌভাগ্য। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই রোহিত শর্মা দেখালেন বুড়ো হাড়ের ভেল্কি। যতসব সন্দেহের বাতিঘর ঝলছিল, তা যেন নিভে গেছে প্রবল দমকা হাওয়ায়।

কলকাতা নাইট রাইডার্সের দেওয়া ২২১ রানের লক্ষ্যমাত্রাকে মামুলি বানিয়ে ফেলে রোহিতের ব্যাটিং ঝড়। তার যেন ছিল বড্ড তাড়া! দ্রুততার সাথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন আরও এক শতকের পানে। কোন কিছুর তোয়াক্কাই করছিলেন না তিনি। খানিকটা খর্ব শক্তির কলকাতার বোলিং আক্রমণকে তুলোধুনো করেছেন রোহিত।
সমান ছয়টি করে চার-ছক্কায় তিনি মাতিয়ে রেখেছিলেন পুরো স্টেডিয়ামকে। ৭৮ রানের ইনিংসটি খেলতে তার খরচ হয়েছিল মাত্র ৩৮ বল। দুইশো ছাড়ানো স্ট্রাইকরেটে প্রতিধ্বনিত হয়েছে বয়সের সংখ্যাগুলো ভীষণ ঠুনকো। ওসবকে খুব একটা পাত্তা দিতে নেই। যতদিন শরীর চলছে- ততদিন কেবল উপভোগ করে যেতে হবে। সেটাই করছেন রোহিত শর্মা।











