২৫ জনের স্কোয়াডে সাব্বির রহমানকে কি রাখা যেত না? এমন একটা প্রশ্ন খুব একটা অবান্তর নয়। ২৫ জনের স্কোয়াডটি প্রাথমিক। সেখানে যে কেউই থাকতে পারেন। আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সাব্বিরকে উপেক্ষা করা বরং প্রতিভার অপচয়।
হিটিং দক্ষতায় সাব্বির বাংলাদেশের অন্যতম সেরা। বহুদিন ধরে তিনি জাতীয় দলে নেই। এমনকি জাতীয় দলের আশেপাশেই দেখা যায় না তাকে। অথচ সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও তিনি প্রমাণ করেছেন, টি-টোয়েন্টিতে তার উপর আরেকটু ভরসা চাইলেই করা যেত।
গেল বিপিএলে প্রায় ১৬০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করেছেন তিনি। ১৮ খানা ছক্কা হাঁকিয়েছেন। এই সামান্য পরিসংখ্যানই বলে দেয় ফুরিয়ে যাওয়ার সোরগোলের মাঝেও টি-টোয়েন্টিতে খুব একটা মন্দ নন সাব্বির। অথচ সেই পারফরম্যান্স মূল্যায়িত হয়নি। তাকে ‘এ’ দল কিংবা বাংলা টাইগার্স কোথাও সুযোগ দেওয়া হয়নি।

এই সময়ে তিনি খেলে বেড়িয়েছেন নাম না জানা সব টুর্নামেন্ট। সেসবের পারফরম্যান্সকে গুরুত্ব না দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করা সমীচিন নয়। তবে বিপিএলের পারফরমেন্সকে অগ্রাহ্য করাকে প্রশ্নের সম্মুখীন নিশ্চিতরুপেই করা যায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটা বিষয় ঘটে প্রতিনিয়ত, এক ফরম্যাট দিয়ে অন্য ফরম্যাটে বিবেচিত হন খেলোয়াড়রা। আর সেই গ্যাড়াকলে আটকে সাব্বির রহমান নেই কোন আলোচনায়। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে তিনি এখনও হতে পারেন বাংলাদেশের ‘অ্যাসেট’।
তাকে জাতীয় দলের আশেপাশের ক্যাম্পগুলোতে অন্তত নিজেকে ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে। বিপিএলের পর সেই প্রক্রিয়া শুরু করলে, অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে যাওয়া ‘টপ এন্ড’ টুর্নামেন্টের জন্যে প্রস্তুত হতে পারতেন তিনি। সেখান থেকে জাতীয় দলের দুয়ার হয়ত খোলার চেষ্টা করতে পারতেন সাব্বির।

কিন্তু তেমনটি ঘটেনি সাব্বিরের ক্ষেত্রে। তিনি অন্ধকার গলিতেই দিনাতিপাত করছেন। গেল বিপিএলে স্বদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে তার স্ট্রাইকরেট ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। একটা ভঙ্গুর দলের হয়েও তিনি লড়াই করেছেন, দারুণ কয়েকটি ইনিংসও উপহার দিয়েছেন।
নিদেনপক্ষে জাতীয় দলের আশেপাশের ক্যাম্পগুলোতে জায়গা পাওয়ার জন্যেও কি এই বিষয়গুলো বিবেচ্য নয়? তাহলে মানদণ্ড আসলে কি? কিভাবে খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হয়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই বা মিলবে কোথা থেকে? টি-টোয়েন্টিতে কি নিজেকে প্রমাণের আরেকটু সুযোগ সাব্বিরের প্রাপ্য নয়?











