অবশেষে সাইফের সেই চিরচেনা রুদ্রমূর্তি

ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে সেই আগ্রাসী রুপের দেখা মিলল সাইফের কাছ থেকে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাকে বাস্তব করতে না পারলেও তিনি জানান দিয়ে রাখলেন 'আমি ফুরিয়ে যাইনি'।

শঙ্কাকে বাউন্ডারি ছাড়া করে সাইফ হাসান ফিরলেন নিজের চেনা ছন্দে। ঢাকা ক্যাপিটালসের জার্সিতে সেই আগ্রাসী রুপের দেখা মিলল সাইফের কাছ থেকে। সেঞ্চুরির সম্ভাবনাকে বাস্তব করতে না পারলেও তিনি জানান দিয়ে রাখলেন ‘আমি ফুরিয়ে যাইনি’।

এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চার-ছক্কার ঝঙ্কারে মাতিয়ে রাখবেন সাইফ হাসান- প্রত্যাশা ছিল তেমনই । ঢাকা ক্যাপিটালস অগাধ ভরসা থেকে তাকে সাইন করিয়েছিল সরাসরি। কিন্তু প্রত্যাশা আর বাস্তবতার মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় সাময়িক অফফর্ম। আক্রমনাত্মক ব্যাটিংয়ের যে প্রদীপ জ্বেলেছিলেন সাইফ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে, সেই প্রদীপ আলো দেয়নি বিপিএলের মঞ্চে।

কিন্তু দেরীতে হলেও আলোক রোশনাই ঠিকই ছড়ালো সাইফের ব্যাট। দ্বাদশ বিপিএলে নিজের শেষ ম্যাচে গর্জে উঠল সাইফের ব্যাট। শিরোপার অন্যতম দাবিদার চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সাইফ খেললেন প্রায় ১৬৬ স্ট্রাইকরেটের ঝড়ো ইনিংস।

৭৩ রানের ইনিংসটি সুসজ্জিত করেছেন তিনি পাঁচটি বিশাল ছক্কায়, সাথে ছিল আরও পাঁচটি চার। ৪৪ রানের ইনিংসটি ঢাকাকে গড়ে দেয় বড় রানের ভীত। সাথে ছড়িয়ে দেয় স্বস্তির সংগীত। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে তার উপরে রয়েছে ব্যাট হাতে পারফরম করার গুরুদায়িত্ব। সে দায়িত্ব তিনি পালন করতে পারবেন কি-না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছিল সংশয় ।

৮ ম্যাচে ৮৩.৩৩ স্ট্রাইকরেটে স্রেফ ৬০ রান সংগ্রহ নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার কারণ। কেননা ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা পারফরমার। এশিয়া কাপের মত বড় মঞ্চেও তিনি দেখিয়েছিলেন নিজের পারফরমেন্সের ধার। সেই একই সাইফ যখন বিপিএলে খাবি খেলেন ,তখন দুশিন্তার সঞ্চার ঘটা স্বাভাবিক।

কিন্তু চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিরুদ্ধে সংশয় উড়িয়ে দিলেন তিনি নিজ হাতে। খারাপ সময় যেতে পারে যেকোন ব্যাটারের। তাই বলে সক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায় না একেবারে। সাইফ প্রত্যাবর্তনের শুরুটা হল একটু দেরীতে। তবে ভালই হল, প্রত্যাবর্তনের এই ধারা বিশ্বকাপে অব্যাহত থাকার একটা সম্ভাবনা তো সৃষ্টি হল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link