নাজমুল হোসেন শান্তকে সরিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজকে অধিনায়ক বানানো শুধু ভুল সিদ্ধান্ত নয়, এটি বাংলাদেশের ওয়ানডেকে ক্রিকেটকে রীতিমত হাসির খোরাক বানিয়ে দিচ্ছে। র্যাংকিংয়ের তলানিতে আছে বাংলাদেশ, ২০২৫ সালের পারফরম্যান্সের যাচ্ছেতাই অবস্থা।
তার নেতৃত্ব ‘অতিরিক্ত সেফ’ এবং ‘স্বার্থকেন্দ্রিক’—যেখানে দলের চেয়ে নিজের অবস্থানকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দলের অন্দরমহলে কেউ কেউ তাঁকে ‘স্বার্থপর’ অধিনায়কও বলছেন হরহামেশাই। অথচ, বেশ অনৈতিক উপায়েই গেল শ্রীলঙ্কা সফর শুরুর আগে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো হয় শান্তকে।

মজার ব্যাপার হল, ওয়ানডের দলের অধিনায়কের একাদশে বা স্কোয়াডেও জায়গাটা অবধারিত নয়। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত বেটার চয়েস হতে পারেন, এমন দাবি বহুদিনের। সর্বশেষ এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তিনি ১৬০ স্ট্রাইকরেটে রান তুলেছেন, ব্যাটিং গড় ৬০-এর কাছাকাছি। ছয় ম্যাচে নিয়েছেন ছয় উইকেট।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সম্প্রতি তাঁর পারফরম্যান্স আরও ঈর্ষণীয়। গেল ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ১৬ ইনিংসে নিয়েছেন ৩০ উইকেট। ১৪ ইনিংসে প্রায় ৫০ গড়ে ৫০০-এর কাছাকাছি রান করেছেন। এমন পারফরম্যান্সকে নির্বাচকরা অবজ্ঞা করেন কি করে, জাতীয় দলের টিকেট পেতে হলে এর চেয়ে বেশি আর কি করতে পারেন একজন অলরাউন্ডার।

অন্যদিকে, মিরাজের যেখানে একাদশেই জায়গাটা নিশ্চিত হওয়া উচিৎ না, সেখানে তাঁকে অধিনায়ক বানিয়ে দিয়ে পারফরম্যান্সের দিকে থেকে ‘নির্ভার’ করে দেওয়াটা ভাল বার্তা দেয় না। এর ওপর যখন প্রকাশ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচক তাঁর গায়ে ‘অটোচয়েজ’-এর তকমা লাগিয়ে দেন, তখন সেটা দলকেও খুব ভাল বার্তা দেয় না।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হল—বাংলাদেশ দল এখন ছন্দহীন। ওয়ানডেতে ১২ ম্যাচ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নয়টিতে হেরেছেন মিরাজ, দু’টি জয়ের পাশে একটি টাই। এই পরিসংখ্যান মিরাজকে ঘিরে কোনো আশার গল্প শোনায় না। বরং সৈকতকে ঘিরে আক্ষেপের সাগরে আরও জোয়ার উঠে।











