সাকিব ডিড, হোয়াট সাকিব ডাজ

প্রতিপক্ষের রানের ধারায় বাঁধ দেওয়া থেকে শুরু করে, তিলে তিলে গড়া মোমেন্টামকে ধূলিসাৎও করতে পারেন উইকেট তুলে নিয়ে। সে কাজটাই করেছেন সাকিব হংকংয়ের বিপক্ষেও।

যতটা দাপট দেখানোর কথা ছিল বাংলাদেশি বোলারদের, সে দাপট দেখাতে গোটা বোলিং ইউনিট। খানিকটা ব্যতিক্রম ছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। মোমেন্টাম নিয়ে আসার কাজে তিনি সিদ্ধহস্ত। হংকংয়ের বিপক্ষে তিনি সে কাজটাই করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে তিনি ছিলেন সবচেয়ে কম খরুচে বোলার।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশের ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে একটা আলোচনা চাওড় হয়েছিল- শরিফুল ইসলাম নাকি তানজিম সাকিব, কে থাকবেন একাদশে? এই দুইজনের মধ্যে নিশ্চয়ই দ্বিধা ছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টেরও। তবে সেই দ্বিধার জবাবটা সাকিব দিয়েছেন বল হাতে। নিজের সক্ষমতার প্রকাশ ঘটিয়ে।

হংকংকে ব্যাটিংয়ের নিমন্ত্রণ জানিয়ে স্বল্পতেই গুটিয়ে দিতে চেয়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। কিন্তু সেই লক্ষ্য আর শেষ অবধি হয়নি বাস্তবায়িত। বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই অবশ্য ঘটেছে তেমনটা। শুরুতে প্রতিপক্ষের মনে ভয় ধরাতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের পেসাররা।

সে দায়ভার অবশ্য তানজিম সাকিবের উপরও বর্তায়। তবে শুরুর সেই অগোছালো বোলিংয়ের প্রতিকার নিয়ে সাকিব ঠিকই হাজির হয়েছেন। হংকংয়ের রানের ধারায় তিনি বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। বাবর হায়াতের কাছে ছক্কা হজমের পরই সেই ব্যাটারের উইকেটকে ছত্রখান করেছেন তানজিম সাকিব।

ধীরে ধীরে হংকংয়ের পক্ষে তৈরি হতে থাকা মোমেন্টামের প্রাসাদ সেখানেই থমকে যায়। নিজের দ্বিতীয় স্পেলে তো রীতিমত কৃপণতার প্রতিমূর্তি হয়ে হাজির হয়েছিলেন সাকিব। নিজের তৃতীয় ওভারে কোন প্রকার রানই তিনি নিতে দেননি। সেই ওভারে আবার উইকেটও নিয়েছেন তিনি। ২১ রানের বিনিময়ে দিনশেষে দুই উইকেট যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে।

ঠিক এ কারণেই তানজিম সাকিবের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন একাদশে। নিজের দিনে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যাওয়ার দৃঢ়তা নিজের মধ্যে ধারণ করেন। প্রতিপক্ষের রানের ধারায় বাঁধ দেওয়া থেকে শুরু করে, তিলে তিলে গড়া মোমেন্টামকে ধূলিসাৎও করতে পারেন উইকেট তুলে নিয়ে। সে কাজটাই করেছেন তিনি হংকংয়ের বিপক্ষেও। তবে বলে রাখা ভাল, এই কার্য সাধন নিয়মিত প্রত্যাশা করা অনুচিত।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link