স্যামসনকে ফিরিয়ে দিয়ে ভুল করল চেন্নাই?

জাদেজা যেখানে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, সেখানে স্যামসন তরুণ, ক্ষুধার্ত এবং ফর্মে আছেন। তাঁকে পেলে চেন্নাই একসঙ্গে নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের - দুই সমস্যাই মিটিয়ে ফেলতে পারত।

আইপিএলের মিনি নিলামের আগেই ট্রেডের গুঞ্জনে জমে উঠেছে ভারতের ক্রিকেট। বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজেদের দলকে শক্তিশালী করতে সম্ভাব্য ট্রেড নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় রয়েছে রাজস্থান রয়্যালস, যারা তাদের অধিনায়ক সাঞ্জু স্যামসনকে ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শোনা যাচ্ছে, স্যামসনের সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজির সম্পর্ক বেশ খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে। তাই রাজস্থান হয়তো ট্রেড ডিলের মাধ্যমে কিংবা সরাসরি নিলামে ছেড়ে দিতে পারে তাঁকে। টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্থান রয়্যালস চেন্নাই সুপার কিংসকে স্যামসনকে অফার করেছিল এবং তার বিনিময়ে চেয়েছিল রবীন্দ্র জাদেজাকে।

তবে চেন্নাই নাকি সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দেয়। ফলে এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই সিদ্ধান্ত কি ভবিষ্যতে চেন্নাইয়ের জন্য বড় ভুল প্রমাণ হতে যাচ্ছে?

জাদেজা বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী, এবং তাঁর পারফরম্যান্সও আগের মতো ধারাবাহিক নয়। ২০২৫ আইপিএলে ১৪ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি, ব্যাট হাতে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৫.৫৯। যদিও ব্যাটিং পারফরম্যান্স মোটামুটি ভালোই ছিল, কিন্তু বল হাতে খুব একটা কার্যকর ছিলেন না।

শেষ দুই মৌসুমে মাত্র ১৮ উইকেট পেয়েছেন, তাও অনেকটা রক্ষণাত্মক বোলিংয়ের কারণে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর প্রভাব কমছে, অথচ ২০২৫ সালের মেগা নিলামে তাঁকে ১৮ কোটি টাকায় ধরে রেখেছে চেন্নাই—যা অনেকের কাছেই এখন প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত।

অন্যদিকে, স্যামসনকে পেলে চেন্নাই এক ঢিলে কয়েক পাখি মারতে পারত। দলটির এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নির্ভরযোগ্য নেতৃত্ব, মহেন্দ্র সিং ধোনির বিকল্প একজন উইকেটরক্ষক, এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন অধিনায়ক—এই তিন ক্ষেত্রেই স্যামসন উপযুক্ত প্রার্থী ছিলেন।

গত দুই মৌসুমে স্যামসনের ব্যাটিং ফর্ম ছিল দারুণ। ২০২৪ সালে তিনি ১৬ ম্যাচে ৫৩১ রান করেছিলেন ১৫৩.৪৭ স্ট্রাইক রেটে, আর ২০২৫ সালে মাত্র ৯ ম্যাচ খেলেই করেছেন প্রায় ৩০০ রান। ধারাবাহিকতা, নেতৃত্বের গুণ এবং ধোনির মতো শান্ত-স্থির মেজাজ—সব মিলিয়ে তিনি চেন্নাইয়ের ভবিষ্যৎ ক্যাপ্টেন হিসেবেও হতে পারতেন উপযুক্ত পছন্দ।

কিন্তু চেন্নাই সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যামসন-জাদেজা অদলবদল না করা চেন্নাইয়ের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় ভুল হতে পারে।

জাদেজা যেখানে ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে, সেখানে স্যামসন তরুণ, ক্ষুধার্ত এবং ফর্মে আছেন। তাঁকে পেলে চেন্নাই একসঙ্গে নেতৃত্ব ও পারফরম্যান্সের – দুই সমস্যাই মিটিয়ে ফেলতে পারত। এখন দেখা যাক, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে চেন্নাইয়ের জন্য কতটা ব্যয়বহুল হয়।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link