স্মিত হাসিতে জেসির নব অধ্যায়কে জানালেন আমন্ত্রণ

তৃতীয় আম্পায়ারের ওই চেয়ারে বসে উন্মাদনা প্রকাশ বেমানান। তাইতো সেই সংযত হাসি নিয়ে জেসি মনোযোগ দিলেন নিজ দায়িত্বে।

টিভি স্ক্রিনে ভেসে উঠল সাথিরা জাকির জেসির নাম। স্মৃত এক হাসিতে নিজের উচ্ছ্বাসকে যেন চেপে রাখার চেষ্টা। তিনি জানেন তিনি গড়ে ফেলেছেন ইতিহাস। তবুও তৃতীয় আম্পায়ারের ওই চেয়ারে বসে উন্মাদনা প্রকাশ বেমানান। তাইতো সেই সংযত হাসি নিয়ে জেসি মনোযোগ দিলেন নিজ দায়িত্বে।

ইতিহাসের নব অধ্যায় খুললেন সাথিরা জাকির জেসি। আম্পায়ার হিসেবে পথচলার নতুন এক অভিজ্ঞতা যুক্ত হল তার। প্রথম কোন বাংলাদেশি নারী আম্পায়ার হিসেবে পুরুষদের ম্যাচে সামলেছেন দায়িত্ব। প্রথম দিনটা কেটেছে তার বেজায় ব্যস্ততায়। আর আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের স্নায়ুচাপে কাবু হননি তিনি, বরং বেশ দৃঢ়তার সাথেই দিয়েছেন নানা সিদ্ধান্ত।

সাথিরা জাকির জেসিকে বলা যেতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সত্যজিৎ রায়। সংস্কৃতি আর সাহিত্যের প্রায় প্রতিটা সেক্টরেই ছাপ ফেলে গেছেন সত্যজিৎ রায়। ঠিক তেমননি ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় ক্রিকেটের সাথেই ছিল জেসির সম্পৃক্ততা। ক্রিকেটার সত্ত্বা ছাপিয়ে তিনি কখনো হয়েছেন ধারাভাষ্যকার, কখনো বা অ্যানালিস্ট।

তবে সেসবকে পেছনে ফেলে নিজের আম্পায়ার সত্ত্বাকেই আকড়ে ধরেছেন তিনি। দেশের নারী ক্রিকেটারদের পথপ্রদর্শক হয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, পার করছেন একের পর এক মাইলফলক। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মত পুরুষদের ম্যাচে তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ইনিংসের চতুর্থ বলেই অনফিল্ড আম্পায়ার জেসির শরণাপন্ন হয়েছেন রানআউটের সঠিক সিদ্ধান্ত জানতে। এরপর আরও বেশ কয়েকবার তার সাহায্য চেয়েছেন অনফিল্ড আম্পায়াররা। কোন প্রকার বিতর্কিত সিদ্ধান্তের আশেপাশেও যাননি সাথিরা জাকির জেসি। এমনকি শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার জন্যে প্রয়োজনে সময় নিয়েছেন, দেখেছেন ভিন্ন ভিন্ন অ্যাঙ্গেল।

নিজের কাজটা নিষ্ঠার সাথেই করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সাথিরা জাকির জেসি। তিনি জানেন তার কাঁধে রয়েছে এক বিশাল দায়িত্বভার। তিনি যে পথপ্রদর্শক। তার সফলতাই নির্ধারণ করে দেবে দেশের নারী ক্রিকেটারদের খেলোয়াড়ি জীবন পরবর্তী গতিপথ।

বহু কাঠখর পুড়িয়ে এই জায়গায় আজ পৌঁছেছেন সাথিরা জাকির জেসি। মেয়েদের ম্যাচে ধারাবাহিকভাবে আম্পায়ার হিসেবে পারফরম করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যোগ্য হিসেবে। সামনেই রয়েছে তার বড় চ্যালেঞ্জ। মেয়েদের বিশ্বকাপেও আম্পায়ারের ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। তার আগে ব্যক্তিগত প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস ম্যাচে তিনি দৃঢ়তার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link