সৌদি ফুটবলের টার্গেট ৫০

২০২৬ বিশ্বকাপের পরপরই বৈশ্বিক ফুটবলের মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো থেকে অন্তত ৫০ জন তারকাকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে সৌদি প্রো লিগের নীতিনির্ধারকরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের পরপরই বৈশ্বিক ফুটবলের মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলো থেকে অন্তত ৫০ জন তারকাকে দলে ভেড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে সৌদি প্রো লিগের নীতিনির্ধারকরা।

এই তালিকায় যেমন আছেন বর্তমান সময়ের সুপারস্টাররা, তেমনি রয়েছেন অভিজ্ঞ কিছু বড় নাম। যাদের উপস্থিতি এক প্রকার বিপ্লব নিয়ে আসবে সৌদি আরবের লিগ ফুটবলে।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত নামটি মোহাম্মদ সালাহ। লিভারপুলের এই মিশরীয় ফরোয়ার্ডকে ঘিরে সৌদি ক্লাবগুলোর আগ্রহ নতুন নয়। ডিসেম্বর মাসে লিডসের বিপক্ষে ড্রয়ের পর কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে সালাহর সম্পর্কের টানাপোড়েনের কথা প্রকাশ্যে আসতেই সৌদি প্রো লিগ সালাহর ব্যাপারে প্রাথমিক খোঁজখবর নিতে শুরু করে।

যদিও লিভারপুল জানিয়েছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি শেষ করেই অ্যানফিল্ড ছাড়বেন সালাহ। তবে তারকাসমৃদ্ধ ও ব্যয়বহুল দল গঠন করেও বর্তমান সময়ে এক প্রকার ধুকতে থাকা এই দল চলতি বছরেই সালাহর প্রস্থান ঘটাতে চাইলে, মোটেই অবাস্তব কিছু হবে না।

আল হিলাল, নিওম এফসি ও আল কাদসিয়াহ – এই তিন ক্লাবই সালাহর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সৌদি লিগের স্পোর্টিং ডিরেক্টর মাইকেল এমেনালোর সাথে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক রয়েছে সালাহর। তাই সম্ভাব্য চুক্তির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন এমেনালো।

একই সঙ্গে সৌদির আগ্রহের কেন্দ্রে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস। আল ইত্তিহাদ, আল হিলাল ও আল নাসর – এই তিন ক্লাবই তাঁকে নিয়ে ভাবছে। এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে ক্যাসেমিরোর ম্যানইউ অধ্যায়ের ইতি। মৌসুম শেষেই ফ্রি এজেন্ট হচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। বয়স ও উচ্চ বেতনের কারণে সৌদি ক্লাবগুলো কিছুটা সতর্ক হলেও আল কাদসিয়াহ ও আল ইত্তিহাদ তাঁকে ঘিরে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে চলছে সবচেয়ে সাহসী পরিকল্পনা। পাঁচ বছরের জন্য প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব। যা ফুটবল ইতিহাসেই নজিরবিহীন। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাঁর চুক্তি জটিলতায় এই সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এছাড়াও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলি, ইউরি টাইলে‌মান্স, আমাদু ওনানা, এমনকি রবার্ট লেভানডোভস্কির ভবিষ্যৎ নিয়েও সৌদি ও এমএলএস ক্লাবগুলোর নড়াচড়া চোখে পড়ার মতো।

সব মিলিয়ে, রোনালদোর পরবর্তী যুগের জন্য সৌদি প্রো লিগ এখনই ভিত গড়ে তুলছে। শুধু ফুটবল নয়, বিশ্বব্যাপী আগ্রহ ও বাজার ধরে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। ইউরোপীয় ফুটবলের জন্য এই গ্রীষ্ম যে অস্থিরতার বার্তা বয়ে আনছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

লেখক পরিচিতি

ক্রীড়াচর্চা হোক কাব্য-কথায়!

Share via
Copy link