শান্ত-লিটনের বিচক্ষণতায় ম্যাচ ভাগ্য বদলায়

নাজমুল হোসেন শান্ত টাইমড আউট করানোর বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানকে। সেই একই রকম বুদ্ধিদীপ্ততা আবারও চোখে পড়ল পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের শেষ ওভারে।

বিশ্বকাপে টাইমড আউটের কথা মনে আছে? সেই সময় নাজমুল হোসেন শান্ত টাইমড আউট করানোর বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসানকে। সেই একই রকম বুদ্ধিদীপ্ততা আবারও চোখে পড়ল পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচের শেষ ওভারে। ঘটনাবহুল সেই ওভারে লিটন দাস ও শান্তর বিচক্ষণতা সেই অর্থে হচ্ছে না আলোচিত।

রিশাদ হোসেনের ফ্লাইটেড ডেলিভারি। লেগ স্ট্যাম্পে পিচ করে আরও খানিকটা বাইরে দিয়ে জমা হল লিটনের দস্তানায়। খালি চোখে মনে হয়েছে সেটি ছিল ওয়াইড। আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা স্বাভাবিকভাবেই ‘ওয়াইড বল’ সিদ্ধান্তই জানিয়েছন দু’হাত প্রসারিত করে। তখনই খানিকটা চটে যান লিটন। কারণ তিনি জানতেন যাত্রাপথে বলটায় লেগেছিল শাহীন শাহ আফ্রিদির ছোঁয়া।

মুহূর্তের মধ্যেই বাইশ গজে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের জটলা। সেই জটলার মধ্য থেকে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আম্পায়ারকে জানালেন তারা লেগ বিফোরের রিভিউ নিতে চান, নিয়মের থাকায় আম্পায়ারও তৃতীয় আম্পায়ারের শরণাপন্ন হন। আর এরপর শাহীন শাহ আফ্রিদি মেজাজ হারিয়ে এগিয়ে যান আম্পায়ারের দিকে। প্রশ্ন করেন, ওয়াইডের বিপরীতে কি রিভিউ নেওয়া যায়?

আম্পায়ার ধর্মসেনা স্পষ্ট জানিয়ে দেন- সেটি লেগ বিফোরের আবেদনের প্রেক্ষিতে নেওয়া রিভিউ। ব্যাস! শাহীন মাটিতে করলেন ব্যাটের আঘাত। সেখানেই পরিষ্কার হয়, শাহীনের ছলচাতুরি বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে। রিভিউতে দেখা যায় বল লেগেছে ব্যাটে। সেই সময়ে দুই বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ওয়াইড হয়ে গেলে সমীকরণ দাঁড়াত দুই বলে ১১ রানের।

শাহীন আফ্রিদি তখন ভাল টাচেই ছিলেন। আগের ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানকে দু’খানা ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন তিনি। অতএব শেষ দুই বলে ১১ রান না হোক, দশ রানের সমীকরণ মিলিয়ে ফেললেই ম্যাচ গড়াত সুপার ওভারে। কিন্তু বাংলাদেশকে এ যাত্রায় রক্ষা করেছেন লিটন ও শান্ত।

ম্যাচ শেষে সেটিই জানিয়েছেন অধিনায়ক মিরাজ। তিনি বলেন, ‘রিভিউটা আমরা আলাপ করেই নিয়েছিলাম। লিটন ছিল, শান্ত ছিল। ওরা দুইজন বলছিল আমাদের রিভিউ আছে, রিভিউটা নিয়ে নেই।’ গেম অ্যাওয়ারনেস ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ- সেটাই আরেকটিবার মঞ্চস্থ হল। মস্তিষ্কের ব্যবহার এভাবেও জেতাতে পারে ম্যাচ।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link