মিডল অর্ডারে ক্রাইসিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ দল। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। আরও স্পষ্ট করে বললে তাওহীদ হৃদয় নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। স্কোরবোর্ড সচল রাখতে পারছেন না। এই অবস্থায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের আগে চার-পাঁচে ব্যাট করতে পারে এমন একজন বিকল্প ব্যাটার দরকার বাংলাদেশের।
সেখানে আদর্শ হতে পারেন নুরুল হাসান সোহান। নুরুল হাসান সোহানের শট খেলার লিমিটেশন আছে। তারপরও যখন যেখানেই তিনি খেলেছেন পারফরম করেছেন। জাতীয় দলের হয়ে সীমিত অভিজ্ঞতাতেও তিনি সফল।
ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে ১১ ম্যাচে নুরুল হাসান সোহান করেছেন ৫১২ রান। গড় ৫৮, স্ট্রাইক রেট প্রায় ৯৫! নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিলেটে চার দিনের ম্যাচ খেলতে নেমে করেন সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লিস্ট ‘এ’ ম্যাচে সেঞ্চুরি করেন, বিসিবির প্রস্তুতি ম্যাচেও রান করেছেন।

সোহানের এই ফর্ম যে কোনো ফরম্যাটেই উইকেটরক্ষকদের জন্য ভীতির কারণ। সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) রান পেয়েছেন। সাফল্য পেয়েছেন গ্লোবাল সুপার লিগেও (জিএসএল)। অধিনায়ক হয়ে দল রংপুর রাইডার্সকে ফাইনালে নিয়েছেন, ফিনিশার রোলে ব্যাট হাতে রান করেছেন। তারপরও জাতীয় দলের দরজা খুলছে না।
অন্যদিকে স্টার বয় তকমার তাওহীদ হৃদয় এখন অনেকটাই নিজের ছায়া। ২০ ওভারের ক্রিকেটে সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে অর্থহীন একটা হাফ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন, এরপর থেকে তাঁর ব্যাটে চলছে রানক্ষরা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কায় তিনি নয়টি টি-টোয়েন্টিই খেলেছেন, কোথাও খুব একটা ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস খেলতে পারেননি। শারজাহতে ২৪ বলে ৪৫ করেছিলেন, সেটাতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ দল।

সব মিলিয়ে এখনকার পরিস্থিতিতে সোহানকে জাতীয় দলে সুযোগ না দিলে সেটা তাঁর প্রতি অবিচার হবে। অন্যদিকে, সিস্টেমকেও বুড়ো আঙুল দেখানো হবে। কারণ, জাতীয় দলে আসার জন্য যখন যেখানে পারফরম করা দরকার, পরিস্থিতির চাহিদা মিটিয়ে ব্যাট করা দরকার – সেটা সোহান করেছেন। অন্যদিকে বারবার ব্যর্থ হয়েছেন হৃদয়।
আগস্ট মাসে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো সিরিজ নেই। ভারতের বাংলাদেশ সফর বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নেপাল, নেদারল্যান্ডস কিংবা নিউজিল্যান্ডের সাথে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের চেষ্টা করছে। সেটা হলে সেখানে নুরুল হাসানের সোহানের ডাক পাওয়া এখন সময়ের দাবি। না পেলে, আরও একবার কাঠগড়ায় উঠবেন বাংলাদেশ দলের নির্বাচক কমিটি।










