হায়দ্রাবাদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের সংকল্প

২০২৪ এর সেই সোনালী স্বপ্নীল দৌড় আর রানার্স আপ ট্রফির দগদগে স্মৃতি যখন ফিকে হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই ২০২৫ এর এক ভয়াবহ বিপর্যয় হায়দ্রাবাদকে ফেলে দিয়েছিল খাদের কিনারে। গত মৌসুমে ১৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয় আর পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে বিদায়। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে জেগে ওঠাই তো অরেঞ্জ আর্মির ধর্ম।

পবিত্র নিজামের শহরে আবারো উৎসবের দামামা। ২০২৪ এর সেই সোনালী স্বপ্নীল দৌড় আর রানার্স আপ ট্রফির দগদগে স্মৃতি যখন ফিকে হয়ে আসছিল, ঠিক তখনই ২০২৫ এর এক ভয়াবহ বিপর্যয় হায়দ্রাবাদকে ফেলে দিয়েছিল খাদের কিনারে। গত মৌসুমে ১৩ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ছয়টিতে জয় আর পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে থেকে বিদায়। কিন্তু ফিনিক্স পাখির মতো ছাই থেকে জেগে ওঠাই তো অরেঞ্জ আর্মির ধর্ম। ২০২৬ আইপিএল প্রাক্কালে তাই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এখন এক নতুন সংকল্পের নাম।

এবারের মৌসুমে হায়দ্রাবাদের ডাগআউটে সবথেকে বড় চমক নেতৃত্বের পরিবর্তন। ইঞ্জুরির কারণে প্যাট কামিন্সের সেই জাদুকরী অধ্যায় আপাতত তুলে রেখে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি ভরসা রেখেছে ঈশান কিষাণের উপর। ভারতের মাটিতে সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের তৃতীয় শিরোপা জয়ের নেপথ্য কারিগর তিনি।

হায়দ্রাবাদের প্রধান অস্ত্র তাদের সেই চিরচেনা বিস্ফোরক ওপেনিং জুটি। ট্র্যাভিস হেড এবং অভিষেক শর্মা – টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম ভয়ংকর এই জুটি ১২.৫৬ রান রেটে পার্টনারশিপ গড়ার রেকর্ড নিয়ে মাঠে নামবে। পাওয়ারপ্লেতে প্রতিপক্ষের বোলিং ইউনিটকে গুঁড়িয়ে দেওয়াটা যেন বরাবরই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

হেড-অভিষেকের সাথে তিন নম্বরে ঈশান কিষাণের অন্তর্ভুক্তি এই ব্যাটিং লাইনআপকে দিয়েছে হিমালয়সম উচ্চতা। মিডল অর্ডারে লিয়াম লিভিংস্টোন এবং হেনরিখ ক্লাসেনের মতো বিধ্বংসী তারকাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করবে যে, রানের গতি যেন কখনো স্তিমিত না হয়।

গত মৌসুমে হায়দ্রাবাদের সুস্পষ্ট দুর্বলতা ছিল তাদের স্পিন বিভাগ। পুরো আসরে স্পিনাররা নিয়েছিলেন মাত্র ১৫টি উইকেট, যা ছিল টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন। ইকোনমি রেটও ছিল বড্ড ছন্নছাড়া- ৯.৮০। তবে এবার দৃশ্যপট ভিন্ন। ঘরোয়া ক্রিকেটের উদীয়মান নক্ষত্র হর্ষ দুবের আগমনে স্পিন বিভাগে এসেছে এক নতুন প্রাণ। সাথে লিয়াম লিভিংস্টোনের পার্ট টাইম স্পিন মাঝের ওভারগুলোতে ব্রেক থ্রু এনে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে।

​প্যাট কামিন্সের অনুপস্থিতি পেস ইউনিটে কিছুটা শূন্যতা তৈরি করলেও হর্ষল প্যাটেল এবং জয়দেব উনাদকাতের মতো অভিজ্ঞ নাবিকরাই বইবে হায়দ্রাবাদের ভার। জ্যাক এডওয়ার্ডসের চোটের বদলে দলে আসা ডেভিড পেইন বাঁহাতি পেসার হিসেবে কতটা কার্যকর হন, সেটিই দেখার বিষয়।

এটুকু নিশ্চিত যে, এবারের সানরাইজার্স কেবল মাঠ কাঁপাতে নয়, বরং বাইশ গজের বুকে এক নতুন মহাকাব্য লিখতেই আদা জল খেয়ে নামছে। মাঠের লড়াইয়ে হয়তো জয়-পরাজয় থাকবেই, কিন্তু অরেঞ্জ আর্মির এই ‘ফিরিঙ্গি মেজাজ’ ক্রিকেট অনুরাগীদের হৃদয়ে যে এক নতুন কম্পন তুলবে, তা বলাই বাহুল্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link