সুপার ফোর নাকি বিদায়—অজানার পথে লিটনের বাংলাদেশ

টি-টোয়েন্টি মানেই বাংলাদেশের চিরকালীন জুজু। সেই হিসেবে এবারের এশিয়া কাপটা লিটন দাসের দলের জন্য ব্যতিক্রম। কারণ, টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে ভাল অবস্থানে বাংলাদেশ আগে কখনওই ছিল না। হোম কন্ডিশন আর অ্যাওয়ে সিরিজ মিলিয়ে সর্বশেষ তিনটি সিরিজের সবগুলোই জিতেছে বাংলাদেশ দল।

টি-টোয়েন্টি মানেই বাংলাদেশের চিরকালীন জুজু। সেই হিসেবে এবারের এশিয়া কাপটা লিটন দাসের দলের জন্য ব্যতিক্রম। কারণ, টি-টোয়েন্টিতে এর চেয়ে ভাল অবস্থানে বাংলাদেশ আগে কখনওই ছিল না। হোম কন্ডিশন আর অ্যাওয়ে সিরিজ মিলিয়ে সর্বশেষ তিনটি সিরিজের সবগুলোই জিতেছে বাংলাদেশ দল।

সেই আত্মবিশ্বাস তো আছেই, শক্তিমত্তা খুঁজতে গেলে আরও ইতিবাচকতা পাওয়া যায় বাংলাদেশের দলের মধ্যে। সেখানে প্রথমেই আসবে টপ অর্ডার। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের দুই ওপেনার আর নাম্বার থ্রি – এই তিনজন আছেন নিজেদের সুপ্রিম ফর্মে। এদের মধ্যে এক বা একাধিক সদস্য প্রত্যেকটা ম্যাচেই পারফরম করছেন, যেটা এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশ দলকে।

এখানেই শেষ নয়, ছক্কা হাকানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন সাবেকী আমলের ভয় অনেকটাই কাটিয়ে ফেলেছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ইনিংস প্রতি ৭.৭৩ হারে ছক্কা হাকিয়েছে, যেখানে ২০২৪ সালে এর হার ছিল ৫.০৮। পাওয়ার হিটিংয়ের মানসিকতা পাল্টে গেছে বলেই বাংলাদেশকে ঘিরে আশা করা যায়।

ফিনিশিং গেমটা এখন অনেকটাই ধাতস্ত করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দলে জাকের আলী অনিক কিংবা শামিম হোসেন পাটোয়ারিরা আছেন, যারা পেশির জোর দেখাচ্ছেন হরহামেশাই। পেস বোলিং কিংবা স্পিন বোলিং নিয়েও আশা করা যায়। দু’টো বিভাগই বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট বৈচিত্রময়।

শেখ মেহেদী হাসান ও নাসুম আহমেদ – একজন অফ স্পিনারের সাথে একজন বাঁ-হাতি স্পিনার আছেন, সাথে যোগ হবেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। পেস বোলিংয়ে বাঁ-হাতি, ডান হাতির সমন্বয় আছে। কাটার মাস্টার খ্যাত মুস্তাফিজুর রহমান একাই বাংলাদেশের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন।  আছে একাধিক মিনি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। মিনি অলরাউন্ডাররা ব্যাট হাতেও ইমপ্যাক্টফুল হতে পারেন, যার কারণে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার এখন অনেকটাই লম্বা।

এতসব আলোর নিচেও আছে অন্ধকার। পেস বোলিং আক্রমণ এখনও অনেক বেশি মুস্তাফিজ নির্ভর। তিনি নিজে একা যতটা ম্যাচ বের করতে পারেন, বাকিরা তেমন নয়। মুস্তাফিজ না থাকলে এই পেস আক্রমণকে সব সময় ভরসা করা যায় না।

সংকট আছে মিডল অর্ডারে, বিশেষ করে চার নম্বর পজিশনে। এই পজিশনে বাংলাদেশ নিয়মিত সুযোগ দিয়ে এসেছে তাওহীদ হৃদয়কে। চলতি বছরে ১০ ম্যাচের বেশি খেলা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে হৃদয়ের স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে কম। সেখানে বিকল্প হতে পারেন সাইফ হাসান কিংবা নুরুল হাসান সোহান। সেটা হয়তো এই মুহূর্তে মন্দের ভাল হতে পারে। কিন্তু, পরিপূর্ণ নাম্বার ফোর এদের কেউই নয়।

মিডল অর্ডারে যেকোনো ব্যাটারই উইকেটে থিতু হতে সময় নেন। সেটা বাংলাদেশের সো-কল্ড পাওয়ার হিটাররাও নেন। যেটা ‘টাইট সিচুয়েশন’-এ বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে প্রায়ই ঠেলে দিতে পারে। এই একই কারণে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত ২০০-২২০ করতে পারে না।

তারপরও নিজেদের শক্তিমত্তা অনুযায়ী খেললে বাংলাদেশের অন্তত সুপার ফোরে খেলতে পারা উচিৎ। সর্বোচ্চ চেষ্টা করলে ফাইনাল খেলতে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আবার গ্রুপ পর্ব থেকেও বাদ পড়ে যেতে পারে লিটন দাসের বাংলাদেশ। এই দলকে দিয়ে সবই সম্ভব।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link