ক্রিকেটের ২২ গজে লেখা হলো ট্র্যাজেডির নতুন এক গল্প। ঘরের মাঠে ভারতকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতানোর মাত্র তিন মাস পরেই অধিনায়কের মুকুট হারাতে হলো সুরিয়াকুমার যাদবকে, এমনকি দল থেকেও ছিটকে যাচ্ছেন তিনি। আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরকে সামনে রেখে নতুন অধিনায়কের হাত ধরে নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে ভারত।
বিশ্বজয়ের সোনালী ট্রফি হাতে উল্লাসের মাত্র তিন মাসের মাথায় এই নির্মম সিদ্ধান্ত স্তব্ধ করে দিয়েছে অনেককেই। দ্য বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) এর এক কর্মকর্তা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘দলের কোচ গৌতম গম্ভীর ও নির্বাচক কমিটির যৌথ আলোচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে ভারতকে এখন নতুন অধিনায়কের পথে হাঁটতে হবে।’
অধিনায়ক সুরিয়ার অধীনে ভারত বিশ্বজয় করলেও, ব্যাটার সুরিয়া দীর্ঘদিনের ফর্মহীনতাই তাঁর ক্যারিয়ারে কাল হয়ে দাঁড়ালো। গত দুই বছর ধরে ব্যাটে রানের যে খরা চলছিল, তা ২০২৬ সালের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) এসেও অব্যাহত ছিল। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি পেলেও পুরো সিজনে তিনি মোটে ২৭০ রান করেছিলেন।

এমনকি গত মার্চে ভারতকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি এনে দেওয়ার সময়েও তাঁর ম্রিয়মাণ ব্যাটিং নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। অথচ ২০২৪ সালে রোহিত শর্মার অবসরের পর এই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের রাজত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর কাঁধে। আর এখন তাঁকে দলে বিবেচনাই করা হবে না বলে জানান বিসিসিআইয়ের সেই কর্মকর্তা।
নিজের অফফর্ম নিয়ে কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে সুরিয়া এক আবেগঘন মন্তব্য করেন। তিনি বলেছিলেন, “অধিনায়কত্ব নেওয়ার পর থেকে আমি কখনো নিজের ব্যক্তিগত বিষয়ে মনোযোগ দিইনি। আমার সাথে সবসময় আরও ১৪ জন মানুষ ছিল এবং তাদের দেখভাল করাটাই ছিল আমার মূল দায়িত্ব। দল জিতছিল, তাই আমি জানতাম আমি সঠিক পথেই আছি এবং আমার রানও আসবে।”
তবে, বিসিসিআই আর সুরিয়াকে রানে ফেরার সুযোগ দেওয়ার পথে নেই। ভারতের ক্রিকেট বরং বিশ্বকাপ জেতানো এই অধিনায়ককে তাঁদের সোনালী অতীত হিসেবে বিবেচনাই করেই এগিয়ে যাচ্ছে নতুনের দিকে। সুরিয়াকে অধিনায়কের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে ভারত যেন জানান দিলো, বর্তমান পারফরম্যান্সই দলের জন্য শেষ কথা।











