প্রতিভা কখনওই কাজে আসে না, যদি পরিশ্রম না থাকে। ক্রিকেটে প্রতিভা কাজে আসবে না, যদি না আপনার গেম অ্যাওয়ারনেস থাকে। ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং কোচ নয়, বরং বাংলাদেশের গেম সেন্স ডেভেলপমেন্টের কোচ দরকার। মামুুলি একটা টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে যেভাবে বাংলাদেশ দল তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ল তাতে দলটির গেম সেন্সকে কাঠগড়ায় তোলাই যায়।
গলদ একেবারে শুরু থেকেই। প্রথম ওভারেই ভেতর দিকে আসা ডেলিভারিতে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তানজিদ তামিম। বলটা নিচে রাখা দরকার ছিল, সেটা তিনি পারেননি।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত, তাকে কখনওই নড়বড়ে মনে হয়নি। কিন্তু, তাড়াহুড়া করে ডাবল নিতে গিয়ে রান আউট হলেন। যখন রহমানুল্লাহ গুরবাজ স্ট্রাইকিং এন্ডে বল ফেললেন, তখন দৃশ্যপটেও নেই শান্ত। এটা স্পষ্ট গেম সেন্সের ঘাটতি। বাংলাদেশ কোনো ভাবেই ৩০০ রান তাড়া করছে না, করছে ১৯১ রানের লক্ষ্য, ১৯০ রানই এই আবুধাবির মাঠে যেকোনো দলের সর্বনিম্ন স্কোর।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও অপরিনত গেম সেন্সের কাঠগড়ায় উঠলেন অকারণে রিভিউ নিয়ে। এর আগে পরপর দুই বলে চার এবং ছক্কা হাঁকানো সাইফ হাসান থার্ড ম্যানে আপার কাট করতে গেলেন। অথচ, সেখানে ফিল্ডার ছিল। স্লো উইকেটে যেখানে গতি বা বাউন্স নেই, সেখানে আপার কাট করে বল বাউন্ডারির বাইরে পাঠানো সম্ভব নয়।
এমন নয় যে টানা দুই বলে চার-ছয় হাকানোর পরের বলে আক্রমনাত্মক শট খেলা যাবে না। খেলা যাবে, যদি গেম সেন্স ঠিক থাকে। কোন অঞ্চলে শট খেলছেন, সেখানে ফিল্ডার আছে কি না, রিস্ক ফ্যাক্টর কতটুকু, এই রিস্কের প্রয়োজন আছে কি না! ১৯১ রান চেজ করতে অহেতুক রিস্ক গেম সেন্সের পরিচয় না।
একই ধারাবাহিকতায় যোগ হলেন তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। এমনিই বাংলাদেশ লেগ স্পিনে দুর্বল। তারওপর সামনে রশিদ খান, যার বিপক্ষে পুরো বিশ্বের তামাম ব্যাটারদের দুর্বলতাই ফাঁস হয়ে যায়। দু’জনই রশিদ খানকে অকারণে চার্জ করতে গেলেন।

নিজেরা বোল্ড হলেন, দলের বিপদ বাড়ালেন, অথচ দু’জনের ব্যাটেই রান আসছিল, ভাল সূচনা পাওয়ার পর সেটা চালিয়ে যাওয়া দরকার ছিল। কিন্তু, স্রেফ নিজেদের উইকেট উপহার দিয়ে এসেছেন বিশ্বসেরা লেগ স্পিনারকে। এমন উপহার নিয়মিত পেয়ে অভ্যস্ত নন রশিদ খান। এটা বিরাট গেম সেন্সের ঘাটতি। জাকের আলী তো রীতিমত আফগানদের ফিল্ডিং অনুশীলন করে তবেই ফিরলেন।
এরকম ঘাটতি নিয়ে মাঝেমধ্যে ম্যাচ জেতা যাবে, তবে সব সময় নয়। বাংলাদেশ দলে প্রতিভার নি:সন্দেহে কমতি নেই। কিন্তু, বারবার গেম অ্যাওয়ারনেসে ছিটকে যাচ্ছে দল। এখানে যত নামি দামি কোচই আনা হোক না কেন, লাভ হবে না।










