বাংলাদেশের ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা উঠলেই সাধারণত চোখ চলে যায় অনেক দূরে—পরের বিশ্বকাপ, তার পরের টুর্নামেন্ট, বড় বড় মঞ্চ। কিন্তু তানজিদ হাসান তামিম যেন অন্য এক পথের কথা বলছেন। তিনি আপাতত খুব দূরে তাকাতে চান না। বিশ্বকাপ ২০২৭ তার ভাবনার কেন্দ্র নয়। তার মনোযোগ এখন একটাই—পরের ম্যাচ, পরের ইনিংস, পরের বল।
তবু ক্রিকেটের মজাটা এখানেই। একজন খেলোয়াড় যতই বর্তমান নিয়ে ভাবুন না কেন, তার পারফরম্যান্সই অনেক সময় পুরো দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনে দেয়। তানজিদ তামিম ঠিক সেটাই করে চলেছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা যেন ছিল তার নিজের গল্প লেখার মঞ্চ। তিন ম্যাচে ১৭৫ রান—পরিসংখ্যানটা সাদা চোখে দারুণ। কিন্তু আসল ব্যাপারটা শুধু রান নয়, তার ব্যাটিংয়ের ধরন। প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি, শেষ ম্যাচে দারুণ এক সেঞ্চুরি—মাঝের সময়টুকুতেও ছিল আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি।

এই আত্মবিশ্বাসটাই আলাদা করে দেয় তানজিদ তামিমকে। বাংলাদেশের ব্যাটিং দীর্ঘদিন ধরে একটু রক্ষণাত্মক ছন্দে বড় হয়েছে। কিন্তু তামিম জুনিয়র যেন সেই ছন্দে নতুন এক আধুনিকতার ছোঁয়া এনে দিচ্ছেন।
এমন ব্যাটার খুব বেশি দেখা যায় না, যে ফাস্ট বোলারের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে পারে। আবার স্পিনারকে এক্সট্রা কাভারের উপর দিয়ে অনায়াসে তুলে মারতে পারে।
এই ধরনের শট শুধু শক্তি দিয়ে খেলা যায় না, লাগে সাহস। লাগে নিজের উপর অদ্ভুত এক বিশ্বাস। তাই অনেকেই বলছেন—তানজিদ তামিম একটু আলাদা। একটু স্পেশাল।

টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের জায়গাটা তিনি অনেকটাই শক্ত করে ফেলেছেন। কিন্তু ওয়ানডেতে পথটা এতটা সহজ ছিল না। এই সিরিজের আগ পর্যন্ত তার গড় ছিল মাত্র চব্বিশের কাছাকাছি। মাঝেমধ্যে দারুণ শুরু করেও বড় ইনিংস বানাতে না পারার একটা সমস্যা ছিল।
হয়তো পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজটাই সেই জায়গাটা বদলে দিতে পারে। অনেক সময় একটা সিরিজই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানোর মুহূর্ত—একটা স্টেপিং স্টোন। তানজিদ তামিমের ক্ষেত্রেও গল্পটা তেমন হতে পারে।
তবে এমন প্রতিভাকে বড় করে তুলতে শুধু খেলোয়াড়ের চেষ্টা যথেষ্ট নয়। দল, বোর্ড, পরিবেশ—সবকিছুরও একটা ভূমিকা থাকে। এই ধরনের ভয়ডরহীন ব্যাটারদের উপর বিনিয়োগ করতে হয়, ধৈর্য ধরতে হয়, ব্যর্থতার সময় পাশে দাঁড়াতে হয়।

আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার—তাদের খেলতে দিতে হয় ভালো উইকেটে। ট্রু উইকেট, যেখানে ব্যাটার জানবে তার শটের মূল্য আছে। যেখানে সাহসী শটগুলো পুরস্কার পাবে।
কারণ এই ধরনের উইকেটেই ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসে আসল প্রতিভা। হয়তো ঠিক সেখান থেকেই একদিন বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নতুন গল্পটা লিখবেন তানজিদ হাসান তামিম।










