রণক্ষেত্রের মুখোমুখি দুই রঙবাজ

একদিকে তানজিম সাকিবের আগুনে বোলিং, অন্যদিকে ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা। মাঠে নামলেই যেন মনে হবে—এ এক ক্ষুদ্র যুদ্ধ, যেখানে রণক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় রঙবাজ - বল আর ব্যাটের সংঘর্ষেই নির্ধারিত হবে।

গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪৭ কিলোমিটার। আর সেই বজ্রচালিত বলেই একেবারে ছত্রখান হয়ে গিয়েছিল অভিষেক শর্মার স্টাম্প। ক্রিকেটীয় কাব্যের ভাষায় যাকে বলা যায় ‘ভয়ঙ্কর সুন্দর’—তানজিম হাসান সাকিব যেন সেটির পাঠ্যপুস্তকীয় উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

ভারতের মাটিতে ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি সিরিজেই প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হন সাকিব ও অভিষেক। কিন্তু সেই দেখা অভিষেকের জন্য হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্ন। দু’বারই তানজিমের বলে ঘায়েল হয়েছেন এই বাঁ-হাতি ওপেনার।

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সাকিবের বিপক্ষে ছয় বল খেলেছিলেন অভিষেক শর্মা। সাহস করে দুটো চার হাঁকিয়েছিলেন টানা দু’ বলে। কিন্তু ওভারের শেষ বলেই এলো প্রতিশোধ—সাকিবের গতি আর নিখুঁত লাইন ঝড়ের মতো উড়িয়ে দিল তার স্টাম্প।

তৃতীয় ম্যাচের দশা আরও দৃষ্টিকটু। এ দফায় হাত খোলার সুযোগই পাননি অভিষেক। তানজিম সাকিবের ছোড়া প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ডাগআউটে। দুই ম্যাচে সাত বল খেলে করেছিলেন মাত্র আট রান। স্ট্রাইক রেট দাঁড়ায় ১১৪—অভিষেকের মতো বিস্ফোরক ব্যাটারের জন্য যা একেবারেই অস্বস্তির।

সেদিন তানজিম সাকিবের বল ছিল শরীর ঘেঁষা, অফ স্টাম্পের করিডরে নিখুঁত। কোনো ফাঁকা জায়গা, কোনো রুমই দেননি অভিষেককে। মানসিক দৃঢ়তা আর আগ্রাসী মনোভাব মিলিয়ে অভিষেকের দুর্বলতাকে খুঁটে খুঁটে বের করেছিলেন তিনি। ফলে চাপটা বাড়তে থাকে, আর শেষমেশ উইকেট তো হারাতেই হলো।

এবার তবে কী হবে? তানজিম সাকিবের অবধারিত জয় নাকি অভিষেক শর্মার প্রত্যাবর্তন? এবারের আসরে অভিষেক শর্মাকে বাড়তি সতর্ক হতেই হচ্ছে।

অবশ্য চলতি এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক শর্মা এখন পর্যন্ত ব্যাট হাতে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। ওপেনার হিসেবে করেছেন ১৭৬ রান। পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ইনিংসে মাত্র ৩৯ বলে খেলেছেন দুর্দান্ত ৭৪ রানের ঝড়ো ইনিংস।

সব মিলিয়ে, লড়াইটা এখন সমান তালে। একদিকে তানজিম সাকিবের আগুনে বোলিং, অন্যদিকে ফর্মে থাকা অভিষেক শর্মা। মাঠে নামলেই যেন মনে হবে—এ এক ক্ষুদ্র যুদ্ধ, যেখানে রণক্ষেত্রের সবচেয়ে বড় রঙবাজ – বল আর ব্যাটের সংঘর্ষেই নির্ধারিত হবে।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link